হিন্দু ধর্মে প্রকৃতি ও মানুষের জীবনের মধ্যে এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। নদী, সূর্য, চন্দ্র, আগুন—সবকিছুকেই দেবতুল্য মনে করা হয়। এই বিশ্বাসেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল প্রবাহিত জলে তামার মুদ্রা নিক্ষেপ করার প্রথা। বহু প্রাচীন কাল থেকেই এই রীতিকে আধ্যাত্মিক শুদ্ধি, গ্রহশান্তি এবং মানসিক স্থিতির প্রতীক হিসেবে মানা হয়ে আসছে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, তামা হল সূর্যের ধাতু এবং জল চাঁদের প্রতীক। সূর্য শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও আত্মশক্তির প্রতীক, আর চন্দ্র মন, আবেগ ও মানসিক স্থিতির নির্দেশক। যখন তামার মুদ্রা প্রবাহিত জলে ফেলা হয়, তখন এই দুই গ্রহের শক্তির মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। এর ফলে মানুষের মনে শান্তি আসে এবং নেতিবাচক প্রভাব কমে।
রাহু–কেতু দোষ নিবারণে ভূমিকা
রাহু ও কেতুকে ছায়াগ্রহ বলা হয়, যাদের প্রভাব জীবনে হঠাৎ বাধা, মানসিক অস্থিরতা ও অজানা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। জ্যোতিষ মতে, শনিবার, অমাবস্যা বা নাগপঞ্চমীর দিনে প্রবাহিত জলে তামার মুদ্রা অর্পণ করলে এই দোষের প্রভাব ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। এতে মন শান্ত হয় এবং জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
আরও পড়ুন:বছরের শেষ দিনে পাঁচ শুভ যোগ, ৭ রাশির জীবনে আনন্দের জোয়ার
আর্থিক সমস্যা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ
তামাকে ইতিবাচক শক্তির বাহক হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, নদীতে তামার মুদ্রা নিবেদন করলে অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটতে শুরু করে। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে, আয় বৃদ্ধি পায় এবং লক্ষ্মীর কৃপা লাভ হয়। যারা বারবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন, তাঁদের জন্য এই প্রতিকার শুভ ফল দিতে পারে বলে জ্যোতিষে উল্লেখ আছে।
আরও পড়ুন:চাণক্য নীতিতে সাফল্যের চাবিকাঠি: কোন জায়গা ও মানুষ এড়িয়ে চলবেন জীবনে এগোতে
পিতৃদোষ নিবারণের প্রতীকী উপায়
পিতৃদোষকে পূর্বপুরুষের অতৃপ্ত আত্মার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। প্রবাহিত জলে তামার মুদ্রা অর্পণকে এক ধরনের তর্পণ হিসেবে দেখা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, এর মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাঁদের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। এতে পারিবারিক অশান্তি, সন্তানসংক্রান্ত সমস্যা ও অদৃশ্য বাধা ধীরে ধীরে কমে আসে।
আরও পড়ুন:প্রেমানন্দ মহারাজের ব্যাখ্যায় অকাল মৃত্যু: কর্মফল নাকি ভ্রান্ত বিশ্বাস?
ইতিবাচক শক্তি ও মানসিক প্রশান্তি
প্রবাহমান জল নিজেই নেতিবাচক শক্তি শোষণ করে নেয় বলে মনে করা হয়। তার সঙ্গে তামার সংযোগ মানসিক ভারসাম্য, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনা বাড়াতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়া মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করে এবং জীবনে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
আরও পড়ুন:শনি–বৃহস্পতি মহাসংযোগে খুলছে ভাগ্যের দরজা, ২০২৬-এ এই ৩ রাশির টাকার চিন্তা শেষ!
সব মিলিয়ে, নদীর জলে তামার মুদ্রা ফেলা শুধুই একটি ধর্মীয় রীতি নয়—এটি বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা ও মানসিক প্রশান্তির এক প্রাচীন অনুশীলন, যা আজও বহু মানুষের জীবনে আশা ও ইতিবাচকতার আলো জ্বালিয়ে রাখে।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.