টলিপাড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (ইমপা)-কে ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। সংগঠনের সভাপতিকে ঘিরে বিতর্ক, অফিস দখলকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ এবং আইনি পদক্ষেপ— সব মিলিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পমহলে।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ইমপা অফিসে শুরু হয় অস্থিরতা। একদল প্রযোজক সংগঠনের দফতরে এসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমেছে দীর্ঘদিন ধরেই। প্রতিবাদী প্রযোজকদের দাবি, সংগঠনের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত পিয়া সেনগুপ্তের।
প্রতিবাদকারীদের একাংশ অফিসে প্রবেশের পর প্রতীকী ‘শুদ্ধিকরণ’-এর আয়োজন করেন বলেও জানা যায়। গঙ্গাজল ছিটিয়ে তাঁরা নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক স্লোগানও ওঠে বলে সূত্রের খবর। সেই ঘটনার পর থেকেই ইমপা-র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতেই মঙ্গলবার কয়েক জন প্রযোজক বৌবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি। একই সঙ্গে সংগঠনের অফিস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আবেদনও জানানো হয়।
অন্যদিকে, পিয়া সেনগুপ্তও পুলিশের দ্বারস্থ হন। তিনি বৌবাজার থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি করেন এবং জানান, সংগঠনের অফিসে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাঙ্কশাল আদালতে আবেদন জানিয়ে ইমপা অফিস এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারির আর্জি জানান তিনি। উল্লেখ্য, এই ধারাই আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল।
বুধবার পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় নেয়। ইমপা অফিসের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে জল্পনা ছড়ায়। প্রতিবাদী পক্ষের কয়েক জন প্রযোজককে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও গুঞ্জন ওঠে। যদিও বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, বর্তমানে গ্রেফতারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ইমপা-র অন্দরের এই সংঘাত এখন টলিপাড়ার অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.