সামান্য কাটা, পেরেক ফুটে যাওয়া কিংবা মরচে ধরা লোহার আঁচড়—এই ধরনের আঘাতকে অনেকেই সাধারণ ঘটনা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অবহেলাই ডেকে আনতে পারে ভয়ংকর টিটেনাস সংক্রমণ। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এই রোগ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
টিটেনাস একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যা স্নায়ুতন্ত্রকে সরাসরি আক্রমণ করে। ক্লস্ট্রিডিয়াম টিট্যানি নামে পরিচিত ব্যাকটেরিয়া সাধারণত মাটি, ধুলো, পশুর বর্জ্য এবং মরচে ধরা ধাতব জিনিসে থাকে। শরীরে কাটা বা ক্ষত থাকলে সেই পথ দিয়েই জীবাণু প্রবেশ করে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আঘাত লাগার পর দ্রুত টিটেনাস টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সাধারণভাবে কাটা বা ক্ষতের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিটেনাস ইনজেকশন নেওয়াকে সবচেয়ে নিরাপদ ধরা হয়। তবে ক্ষত যদি গভীর হয় বা মাটি, ধুলো কিংবা মরচে ধরা জিনিসের সংস্পর্শে আসে, তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের দাবি, সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশ পেতে পারে। প্রথমে চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া বা ‘লকজ’ দেখা দেয়। এরপর ঘাড়, পেট ও শরীরের বিভিন্ন পেশিতে তীব্র খিঁচুনি শুরু হতে পারে। সংক্রমণ বাড়লে শ্বাস নিতে সমস্যা, খাবার গিলতে অসুবিধা এমনকি জীবনসংকটও তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিটেনাসের জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর এক ধরনের শক্তিশালী টক্সিন তৈরি করে, যা স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম নষ্ট করে দেয়। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করলেও, একবার স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটিকে পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন। তাই এই রোগে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
অনেকেই মনে করেন একবার টিটেনাস টিকা নিলেই আজীবনের সুরক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সময়ের সঙ্গে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই প্রতি ১০ বছর অন্তর টিটেনাসের বুস্টার ডোজ নেওয়া প্রয়োজন। আর যদি কেউ ঝুঁকিপূর্ণ বা গভীর আঘাত পান, তাহলে ৫ বছরের মধ্যেই বুস্টার নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া উচিত। যেমন—
*ক্ষত গভীর হলে
*মরচে ধরা লোহা বা ধারালো জিনিসে আঘাত লাগলে
*ক্ষতস্থানে ফোলা, পুঁজ বা তীব্র ব্যথা দেখা দিলে
*শেষ কবে টিটেনাস টিকা নেওয়া হয়েছে মনে না থাকলে
*ক্ষত মাটি বা নোংরা জিনিসের সংস্পর্শে এলে
টিটেনাস প্রতিরোধ করা সম্ভব, তবে তার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা এবং দ্রুত ব্যবস্থা। তাই ছোটখাটো আঘাতকেও হালকাভাবে না নিয়ে প্রয়োজন হলে দ্রুত টিটেনাস টিকা নেওয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।