টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এখনও স্তব্ধ টলিপাড়া। ঘটনার কয়েকদিন কেটে গেলেও শোক, ক্ষোভ এবং প্রশ্ন— তিনটিই সমানভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে শিল্পী মহল থেকে সাধারণ মানুষের মনে।
শনিবার এক নীরব প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। স্বরূপ বিশ্বাস এবং পিয়া সেনগুপ্ত-র নেতৃত্বে টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো থেকে রাধা স্টুডিয়ো পর্যন্ত রাস্তায় নেমে আসে মানুষের ঢল। কালো ব্যাজ পরে এই মিছিলে শামিল হন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল, অভিনেত্রী জুন মালিয়া, পাপিয়া অধিকারী-সহ বহু শিল্পী।
এই মিছিলে শুধু তারকারাই নয়, ছিলেন অসংখ্য সাধারণ মানুষও। অনেককে দেখা যায় রাহুলের ছবি গলায় ঝুলিয়ে শোকপ্রকাশ করতে। তাঁদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে রাহুলকে চিনতেন না, কিন্তু এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

মিছিলে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় যখন অভিনেত্রী মিশমি রায় বণিক কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, সহকর্মী হিসেবে রাহুল কতটা আন্তরিক ছিলেন এবং কীভাবে সকলের খোঁজখবর রাখতেন।
ঘটনার পর থেকেই বারবার উঠছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন। জুন মালিয়া স্পষ্টভাবে বলেন, কাজের পরিবেশে নিরাপত্তার বিষয়টি বহুবার তুললেও তা গুরুত্ব পায়নি। তাঁর বক্তব্য, মুম্বইয়ের প্রযোজনা সংস্থাগুলিতে এ ধরনের অব্যবস্থা সাধারণত দেখা যায় না।
উল্লেখ্য, তালসারিতে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীনই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার থানায় অভিযোগ দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন টলিউডের আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি, যেমন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, যিশু সেনগুপ্ত, সৌরভ দাস।
যদিও এই প্রতিবাদ মিছিলে আর্টিস্ট ফোরামের আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি দেখা যায়নি, তবুও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই যোগ দেন। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ও অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় তাঁদের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। মিছিল শেষে আবেগে ভেঙে পড়েন চূর্ণী।
শিল্পীদের একটাই প্রশ্ন— কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটল? কেন নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হল না? এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হলেও, তার পর থেকে আর কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যু শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়— এটি টলিউড ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন সবার নজর তদন্তের দিকে— সত্য সামনে আসবে কবে, সেটাই দেখার।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.