তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২০২১ সালের একটি ত্রিপুরা-সংক্রান্ত মামলায় সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ত্রিপুরার খোয়াই আদালত। সেই নির্দেশের ভিত্তিতে আদালতের সমন কলকাতার কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন হিসেবেও পরিচিত।
বুধবার বিকেলে আদালতের নিযুক্ত এক বেলিফ স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় যান। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে সমন তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি সেই সময়ে কলকাতায় উপস্থিত না থাকায় সরাসরি নোটিস গ্রহণ সম্ভব হয়নি।
জানা গিয়েছে, আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছিল যে অভিযুক্ত ব্যক্তির হাতে সমন তুলে দেওয়া না গেলে নির্দিষ্ট ঠিকানার দৃশ্যমান স্থানে নোটিস টাঙিয়ে তার প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তৃণমূলের একাধিক নেতা ও কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের উদ্যোগে সমন গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও। সূত্রের খবর, তিনি আদালতের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে নোটিস গ্রহণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। পরে একটি কর্মীর মাধ্যমে সমন গ্রহণ করানো হয় বলে জানা যায়। ফলে নোটিস প্রকাশ্যে টাঙানোর প্রয়োজন পড়েনি।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের অগস্ট মাসে। সে সময় ত্রিপুরায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন তৃণমূল কর্মী ও নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলে খোয়াই থানার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ। ওই ঘটনার জেরেই ত্রিপুরা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আদালত সমন জারি করেছে।
এদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে আরও একটি তদন্তও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়েও তাঁকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তদন্ত সূত্রে দাবি করা হয়েছে, একাধিকবার ডাকার পরও তিনি হাজির হননি। যদিও এই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রিপুরা মামলায় আদালতের সমন এবং চলমান তদন্ত—দুই ক্ষেত্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী দিনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। :::

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.