বাস্তুশাস্ত্রে শুধু বাড়ি তৈরির দিকনির্দেশই নয়, দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসের উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রান্নাঘর ও খাবার খাওয়ার নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তু মতে, সঠিক জায়গায় রান্না করা ও নির্দিষ্ট দিশায় বসে খাবার খেলে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। অন্যদিকে এই নিয়মগুলি অমান্য করলে স্বাস্থ্যহানি, আর্থিক সমস্যা, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে।
রান্নাঘরের সঠিক দিশা কী হওয়া উচিত?
বাস্তু অনুসারে, রান্নাঘরের সবচেয়ে শুভ দিক হল বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণ, যাকে অগ্নি কোণ বলা হয়। এই দিশা অগ্নি তত্ত্বের প্রতীক, তাই এখানে রান্না করলে খাবারে ইতিবাচক শক্তি বজায় থাকে। রান্না করার সময় রাঁধুনির মুখ পূর্ব দিকে থাকা সবচেয়ে ভালো বলে মনে করা হয়। এতে খাবার স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর হয় বলে বিশ্বাস।
কিছু ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব দিকেও রান্নাঘর গ্রহণযোগ্য হলেও, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক রান্নাঘরের জন্য শুভ নয়। এই দিকগুলিতে রান্না করলে সংসারে অশান্তি ও আর্থিক টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে বলে বাস্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
কোন দিকে মুখ করে বসে খাওয়া সবচেয়ে ভালো?
খাবার খাওয়ার সময় দিশার গুরুত্বও কম নয়। বাস্তু মতে, পূর্ব দিকে মুখ করে বসে খাওয়া সবচেয়ে শুভ। এতে সূর্যের ইতিবাচক শক্তি শরীরে প্রবেশ করে, মন সতেজ থাকে এবং হজম শক্তিও ভালো হয়।
উত্তর দিকে মুখ করে খাওয়াও ভালো ফল দেয়, কারণ এই দিককে ধনদেবতা কুবেরের দিক হিসেবে ধরা হয়। এর ফলে আর্থিক স্থিতি ও মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকে।
আরও পড়ুন
Vastu: বাস্তুশাস্ত্র মতে এই দিনগুলিতে রুটি বানানো নিষেধ, নইলে ঘরে নামতে পারে আর্থিক সংকট
কখনওই দক্ষিণ দিকে মুখ করে বসে খাওয়া উচিত নয়। এই দিককে যমের দিক বলা হয়, যা নেতিবাচক শক্তির প্রতীক। পশ্চিম দিকে মুখ করে খেলে মাঝারি ফল পাওয়া যায়, তবে এটি সর্বোত্তম নয়।
খাবার প্লেট ও পরিবেশনের বাস্তু নিয়ম
বাস্তু মতে খাবার পরিবেশনেরও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। খাওয়ার সময় প্রথমে প্লেটে ভাত বা রুটি রাখা উচিত। এটিকে দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্লেটের ডানদিকে লবণ এবং বামদিকে আচার রাখা শুভ।
আরও পড়ুন
Vastu: সিন্দুকের সঠিক দিকেই লুকিয়ে আর্থিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি
খাওয়ার জন্য স্টিল বা ব্রোঞ্জের প্লেট ব্যবহার করা ভালো বলে মনে করা হয়। প্লাস্টিক বা ভাঙা পাত্র এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। খাবার খাওয়ার সময় মন শান্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। টিভি দেখা বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে খাবারের ইতিবাচক শক্তি নষ্ট হয় বলে বিশ্বাস।
এছাড়া অবশিষ্ট খাবার কখনও নষ্ট না করে পাখি বা অভাবীদের দান করা উত্তম। এতে ঘরে লক্ষ্মীর কৃপা বজায় থাকে এবং নেতিবাচকতা দূর হয়।
সব মিলিয়ে, বাস্তু মতে রান্নাঘরের দিশা, খাবার খাওয়ার সময় মুখের দিক ও পরিবেশনের ছোট ছোট নিয়ম মেনে চললে সংসারে সুখ, স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি দীর্ঘদিন বজায় থাকতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.