পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন পরিস্থিতি। রাজ্যপাল টিএন রবির দফতর লোক ভবন থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২(বি) ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৭ মে থেকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কার্যত বিদায়ী হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার।
তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ভাবে ইস্তফা না দিলেও বিধানসভা ভেঙে যাওয়ায় তাঁর মন্ত্রিসভার সাংবিধানিক অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, বিধানসভা বিলুপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভার কার্যকারিতাও শেষ হয়ে যায়। সেই অর্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন কার্যত ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী হলেও তাঁকে বরখাস্ত করার কোনও নির্দেশ রাজ্যপালের তরফে জারি হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে— নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব কার হাতে থাকবে? কারণ, রাজ্যপাল এখনও কাউকে অন্তর্বর্তী বা তদারকি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব দেননি। ফলে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের শাসন কাঠামো নিয়ে তৈরি হয়েছে সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। সাধারণত নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা জমা দেন এবং নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রশাসন চালান। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফল ঘোষণার
পরের দিন, মঙ্গলবার মমতা বলেছিলেন, ‘‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে?’’ ফলে সংবিধানের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের শাসনব্যবস্থা মূলত রাজ্যপালের নামে পরিচালিত হয় এবং মন্ত্রিসভা তাঁর প্রতিনিধিত্বে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এখন যেহেতু বিধানসভা এবং মন্ত্রিসভা— দু’টিরই কার্যকারিতা শেষ হয়েছে, তাই সাময়িক ভাবে প্রশাসনিক ক্ষমতা সরাসরি রাজ্যপালের হাতেই কেন্দ্রীভূত থাকতে পারে।
যদিও অনেকের মতে, এই পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করার পথও খোলা ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত সেই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত রাজ্যপাল নিজ দায়িত্বেই প্রশাসনিক বিষয়গুলি তদারক করবেন।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, শুক্রবার বিজেপি বিধায়কদের সমর্থনের চিঠি রাজ্যপালের হাতে তুলে দিতে পারে। তার পর শনিবার নতুন সরকারকে শপথ গ্রহণ করানো হতে পারে। সেই সম্ভাবনাকেই সামনে রেখে এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহল তাকিয়ে রয়েছে লোক ভবনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভোটের ফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি পরাজয় মানছেন না এবং ইস্তফা দেওয়ারও কোনও কারণ দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য ছিল, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁকে সরাতে হলে সাংবিধানিক পথেই পদক্ষেপ করতে হবে। এরপরই রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.