সরকারের মেয়াদ শেষ, তবু সমাজমাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয় বহাল মমতার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এক অস্বাভাবিক মোড়ে দাঁড়িয়ে। বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়েছে, পুরনো মন্ত্রিসভার কার্যকালও আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ। তবু সমাজমাধ্যমে নিজের পরিচয়ে কোনও পরিবর্তন আনেননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স— সব জায়গাতেই তিনি এখনও নিজেকে “পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী” হিসেবেই উল্লেখ করে রেখেছেন।

বুধবার রাতেই রাজ্যপাল টিএন রবি সপ্তদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এর ফলে বিধানসভার অস্তিত্বের পাশাপাশি কার্যত পুরনো মন্ত্রিসভারও অবসান ঘটে। কিন্তু তার পরেও মমতার সমাজমাধ্যমের পরিচয়ে ‘প্রাক্তন’ শব্দটি যোগ হয়নি। রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে ৮০টি আসন। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফল প্রকাশের পর থেকেই ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছে তৃণমূল নেতৃত্ব। মমতার দাবি, বহু কেন্দ্রে ভোট লুট হয়েছে এবং সেই কারণেই এই ফলাফল গ্রহণযোগ্য নয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণ পরিস্থিতিতে নির্বাচনে হারলে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়াই প্রথা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি থাকায় তিনি ফলাফলকে সম্পূর্ণ বৈধ বলে মানতে রাজি নন। আইনি পথেও লড়াই চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক স্তরেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত রাজ্যের কার্যত শাসনভার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। আগামী শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের কথা রয়েছে। তার আগে এই অন্তর্বর্তী সময়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে সাংবিধানিক বিতর্ক।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এমন পরিস্থিতি বিরল হলেও অসাংবিধানিক নয়। তাঁদের ব্যাখ্যায়, রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা মূলত রাজ্যপালের নামে পরিচালিত হয় এবং মন্ত্রিসভা সেই ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করে। বর্তমানে বিধানসভা ও মন্ত্রিসভা— দু’টিই কার্যত অনুপস্থিত থাকায় রাজ্যপাল সরাসরি প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। যদিও অল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতির শাসনের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে, তবে সে পথে আপাতত হাঁটার ইঙ্গিত মেলেনি।

অন্যদিকে, তৃণমূলের একাংশের দাবি, ভোটে অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতেই মমতা ইস্তফা দিচ্ছেন না। তাঁদের বক্তব্য, তিনি চাইছেন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে সরানো হোক, যাতে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন উত্তেজনা, বিতর্ক এবং সাংবিধানিক ব্যাখ্যার এক জটিল পর্বের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক