শরীর সুস্থ রাখতে শুধু পুষ্টিকর খাবার খেলেই হয় না, কখন কী খাচ্ছেন সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, অনেক স্বাস্থ্যকর খাবারও ভুল সময়ে খেলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। অম্বল, গ্যাস, বদহজম থেকে শুরু করে ঘুমের ব্যাঘাত—সব কিছুর পিছনেই থাকতে পারে খাদ্যাভ্যাসের ভুল সময় নির্বাচন।
অনেকেই দিনের শুরু করেন এক গ্লাস দুধ দিয়ে। কিন্তু খালি পেটে দুধ খেলে কারও কারও ক্ষেত্রে গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, সকালে একেবারে খালি পেটে দুধ না খেয়ে রাতে ঘুমের আগে তা পান করা ভালো। এতে শরীর ও স্নায়ু শিথিল হয়, ঘুমও আরামদায়ক হতে পারে।
রাত জেগে কাজ বা সিনেমা দেখার সময় অনেকেরই চকোলেট খাওয়ার অভ্যাস থাকে। বিশেষ করে ডার্ক চকোলেটে থাকা ক্যাফেইন ও চিনি ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। ফলে গভীর ঘুমে সমস্যা হয় এবং পরদিন ক্লান্তি দেখা দেয়।

টমেটো ও টক জাতীয় ফলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। টমেটোয় থাকা অ্যাসিড অনেকের শরীরে অম্বল বা গ্যাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই রাতের খাবারে বা ঘুমের ঠিক আগে টমেটো, কমলালেবুর মতো টক ফল এড়িয়ে চলাই ভালো।
আপেল অত্যন্ত উপকারী ফল হলেও রাতে তা খেলে হজমের গোলমাল হতে পারে বলে মত পুষ্টিবিদদের। কারও কারও ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই আপেল খাওয়ার আদর্শ সময় হল দিনের প্রথম ভাগ।
গরমকালে তরমুজ শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করলেও রাতে তা খেলে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা হতে পারে। ফলে ঘুম ব্যাহত হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত জলীয় উপাদানের কারণে রাতে হজমের অস্বস্তিও হতে পারে। তাই দুপুরে বা বিকেলে তরমুজ খাওয়াই বেশি উপকারী।
ওজন কমানোর আশায় অনেকেই খালি পেটে গ্রিন টি পান করেন। কিন্তু এতে উল্টে পেটে জ্বালা, অম্বল বা হজমের সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা কিছু খাবার খাওয়ার পর গ্রিন টি পান করলে তবেই তার উপকার বেশি পাওয়া যায়।
রাতে অতিরিক্ত ভাত খাওয়ার অভ্যাসও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে হজমের সমস্যা তো হয়ই, পাশাপাশি ওজনও দ্রুত বাড়তে পারে। তাই রাতের খাবার সবসময় হালকা রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
মধু শরীরের জন্য উপকারী হলেও তা খাওয়ার সময় নিয়েও রয়েছে মতামত। সকালে কুসুম গরম জলের সঙ্গে মধু খেলে উপকার মিলতে পারে। তবে রাতে শোয়ার আগে অতিরিক্ত মধু খেলে শরীরে অস্বস্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই যে যেকোনও সময়ে তা খাওয়া যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজন ও হজমের ক্ষমতা অনুযায়ী সঠিক সময়ে খাবার খাওয়াই সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.