ঋতুস্রাবের আগে অনেক তরুণীর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা যায়। সামান্য কথাতেই রাগ, অকারণ মনখারাপ, ক্লান্তি কিংবা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া— এই সমস্যাগুলি খুবই সাধারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিকের আগে শরীরে হরমোনের ওঠানামার প্রভাব শুধু শরীরেই নয়, মনের উপরেও পড়ে। আর সেই কারণেই অনেক সময় সবচেয়ে কাছের মানুষ, বিশেষ করে সঙ্গীর উপর বিরক্তি প্রকাশ করেন বহু নারী।
ঋতুস্রাব শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তলপেটে ব্যথা, কোমরে টান, স্তনে অস্বস্তি, মাথাব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনেকেরই হয়। এর পাশাপাশি মানসিক পরিবর্তনও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেউ বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, কেউ আবার একা থাকতে চান। সামান্য বাধা বা মতের অমিল থেকেও ঝগড়া শুরু হয়ে যেতে পারে।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় শরীর ও মনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। ফলে ধৈর্য কমে যায় এবং অনেকেই পরিস্থিতির তুলনায় বেশি প্রতিক্রিয়া দেখান। পরে অনেকেরই মনে হয়, রাগ বা আচরণটি অপ্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু সেই মুহূর্তে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসও এই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অনেকেরই অরুচি হয় বা ঠিকমতো খেতে ইচ্ছা করে না। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়ে মুড সুইং আরও বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই সময়ে পর্যাপ্ত জল, ফল, প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও কমবে।
এ ছাড়াও মানসিক চাপ বড় কারণ হতে পারে। অনেক তরুণী মাসিকের সময় পোশাকে দাগ লাগার ভয় বা সামাজিক অস্বস্তির কারণে উদ্বেগে ভোগেন। এই চাপ থেকেও বিরক্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই মানসিকভাবে নিজেকে শান্ত রাখা জরুরি। নিয়মিত যোগাভ্যাস, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম বা কিছু সময় নিজের মতো কাটালে উপকার মিলতে পারে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতুস্রাবের আগে অনেক নারী অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা বা চাপা উদ্বেগ নিয়েও বেশি ভাবতে থাকেন। ফলে হতাশা বা অবসাদের অনুভূতি বেড়ে যেতে পারে। এই সময় পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীর সহানুভূতিশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অযথা তর্ক এড়িয়ে পাশে থাকলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মাসিকের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম, সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত জলপান শরীর ও মন— দুইই ভাল রাখতে সাহায্য করে। সামান্য সচেতনতা ও যত্নেই এই সময়ের খিটখিটে মেজাজ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।