উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হলো শোকের ছায়ায়। যমুনা নদীর শান্ত জলে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। বৃন্দাবনে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এখনও নাড়া দিয়ে যাচ্ছে গোটা দেশকে।
সোমবার উদ্ধারকারী দল নদী থেকে আরও দু’টি দেহ উদ্ধার করার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়। নতুন করে উদ্ধার হওয়া মৃতদের মধ্যে একজন পাঞ্জাবের বাসিন্দা যশ ভাল্লা, যিনি ‘যুবরাজ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। অপরজন মণিকা নামে এক মহিলা। দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকার ফলে এবং স্রোতের ধাক্কায় দেহ দুটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ঘটনাস্থল ছিল কেশী ঘাট সংলগ্ন এলাকা, যেখানে নদীর গভীরতা এবং স্রোত তুলনামূলক বেশি। National Disaster Response Force (এনডিআরএফ)-এর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং দেহগুলি পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে সেগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
তবে এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে খুঁজে বের করতে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে উদ্ধার অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘স্ট্রাইক ওয়ান কোর’-এর জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে আকাশপথ থেকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে নদীর দুর্গম অংশেও অনুসন্ধান সম্ভব হয়।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
ঘটনার সূত্রপাত ১০ এপ্রিল বিকেলে। পাঞ্জাবের লুধিয়ানা ও মুক্তসর এলাকা থেকে আসা প্রায় ১৫০ জন পুণ্যার্থীর একটি দল বৃন্দাবনে পৌঁছেছিলেন। তাঁদের মধ্যেই কয়েকজন একটি নৌকায় ওঠেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নৌকাটিতে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী উঠেছিলেন—যা দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নৌকাটি যখন গভীর জলের দিকে এগোচ্ছিল, তখন সেটি একটি ভাসমান বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই উল্টে যায়। তদন্তকারীদের অনুমান, নদীতে তৈরি অস্থায়ী ব্রিজের ড্রামগুলোর সঙ্গেই ধাক্কা লেগেছিল নৌকাটির। জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ড্রামগুলো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
শোকের ছায়া নদীপাড়ে
দুর্ঘটনার পর থেকে নদীর পাড়ে স্বজনহারাদের কান্না থামেনি। প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় অনেকেই দিন-রাত সেখানে বসে রয়েছেন। পাঞ্জাব থেকে আসা পুণ্যার্থীদের মধ্যে এই শোক আরও গভীর আকার নিয়েছে।
তদন্ত শুরু
এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল—নদীপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জোরদার? উৎসবের আনন্দে সামান্য অসতর্কতাই যে কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তারই করুণ উদাহরণ হয়ে রইল বৃন্দাবনের এই নৌকাডুবি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.