৩০ বছর পর শনির বিরাট চাল! সাড়েসাতির কবলে নতুন রাশি, মুক্তি পাবে কারা

বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফলদাতা ও ন্যায়বিচারের দেবতা হিসেবে মানা হয়। ধীরগতির গ্রহ হওয়ায় শনিদেবের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে যেতে দীর্ঘ সময় লাগে। প্রায় আড়াই বছর অন্তর তাঁর রাশি পরিবর্তন হয় এবং সম্পূর্ণ রাশিচক্র ঘুরতে সময় লাগে প্রায় ৩০ বছর।
বর্তমানে শনিদেব মীন রাশিতে অবস্থান করছেন। জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে শনিদেব মীন রাশি ছেড়ে মেষ রাশিতে প্রবেশ করবেন। এই রাশি পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে ১২টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনেই। তবে বিশেষভাবে বদল আসবে শনির সাড়েসাতি ও ঢৈয়্যার ক্ষেত্রে।

সাড়েসাতি কী?

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, শনিদেব যখন কোনো ব্যক্তির জন্মরাশির আগের রাশি, জন্মরাশি এবং পরের রাশিতে অবস্থান করেন, তখন মোট প্রায় সাড়ে সাত বছরের সময়কে শনির সাড়েসাতি বলা হয়। এই সময়কে সাধারণত তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
প্রথম পর্যায়ে মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা দেখা দিতে পারে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে মনে করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়কে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। শেষ পর্যায়ে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা বলা হয়।
অন্যদিকে, জন্মরাশি থেকে চতুর্থ বা অষ্টম স্থানে শনির অবস্থানকে শনির ঢৈয়্যা বলা হয়। এর স্থায়িত্ব সাধারণত প্রায় আড়াই বছর।

২০২৭ সালে কার সাড়েসাতি শুরু হবে?

শনিদেব মেষ রাশিতে প্রবেশ করলে বৃষ রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপর সাড়েসাতির প্রথম পর্যায় শুরু হবে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গণনায় ধরা হয়। এই সময় কর্মক্ষেত্র, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিগত জীবনে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়কে শুধুমাত্র নেতিবাচক হিসেবে দেখার পরিবর্তে ধৈর্য, পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

মেষ ও মীন রাশির ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন?

শনিদেব মেষে প্রবেশ করলে মেষ রাশির জাতকদের সাড়েসাতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এই পর্যায়কে সাড়েসাতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করেন জ্যোতিষীরা।
অন্যদিকে, মীন রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে সাড়েসাতির শেষ পর্যায় চলবে। ফলে ধীরে ধীরে মানসিক চাপ ও আর্থিক টানাপোড়েন কমার সম্ভাবনার কথা জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়।

কুম্ভ রাশি পাবেন সাড়েসাতি থেকে মুক্তি

কুম্ভ রাশি
কুম্ভ রাশি

২০২৭ সালে শনিদেবের মেষ গোচরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে কুম্ভ রাশির ক্ষেত্রে। শনির সাড়েসাতির প্রভাব থেকে কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকারা সম্পূর্ণ মুক্ত হবেন বলে জ্যোতিষীয় গণনায় ধরা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাজ এগিয়ে যাওয়া, কর্মক্ষেত্রে নতুন সুযোগ এবং আর্থিক ক্ষেত্রে স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। তবে বাস্তব জীবনের ফলাফল ব্যক্তির জন্মছক ও অন্যান্য গ্রহের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে।

ঢৈয়্যার ক্ষেত্রেও আসবে বদল
শনিদেব মেষ রাশিতে প্রবেশ করার পর সিংহ ও কন্যা রাশির জাতকদের ওপর শনির ঢৈয়্যা শুরু হবে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রীয় হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বৃশ্চিক ও ধনু রাশির জাতক-জাতিকারা ঢৈয়্যার প্রভাব থেকে মুক্তি পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

শনির প্রভাব কমাতে কী করবেন?

জ্যোতিষশাস্ত্রে শনির প্রতিকূল প্রভাব কমানোর জন্য কয়েকটি আচার পালনের কথা বলা হয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী—

শনিবার সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় জল দিয়ে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানো যেতে পারে।
সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী দান করা হয়।
শনিবার শনিদেবের মন্ত্র জপ করার প্রচলন রয়েছে।
হনুমান চালিসা পাঠও শনির প্রতিকূলতা কাটানোর একটি প্রচলিত ধর্মীয় উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০২৭ সালে শনির গোচরে বড় পরিবর্তন
শনিদেবের মেষ রাশিতে প্রবেশের ফলে ২০২৭ সালে সাড়েসাতি ও ঢৈয়্যার সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে মনে করা হয়। বৃষ রাশির ওপর নতুন করে সাড়েসাতি শুরু হবে, মেষ রাশি সাড়েসাতির দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকবে এবং মীন রাশি শেষ পর্যায়ে পৌঁছবে। কুম্ভ রাশি সাড়েসাতি থেকে মুক্ত হবে। একই সঙ্গে সিংহ ও কন্যার ক্ষেত্রে ঢৈয়্যার নতুন পর্ব শুরু হওয়ার কথা বলা হচ্ছে, আর বৃশ্চিক ও ধনু এই প্রভাব থেকে মুক্ত হবে।

দ্রষ্টব্য: এগুলি বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস ও গণনার ভিত্তিতে বলা হয়েছে। ব্যক্তিভেদে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক