হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিকে কর্মফলের দেবতা বলা হয়। মানুষের কর্ম অনুযায়ী ফল প্রদান করেন তিনি। শাস্ত্রমতে শনি যে রাশিতে অবস্থান করেন, সেই রাশি ও তার আগের-পরে রাশিতে সাড়ে সাতি প্রভাব ফেলে। এছাড়াও থাকে ধাইয়া। তবে এর থেকেও দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো শনির ১৯ বছরের মহাদশা।
এই দীর্ঘ সময়টি সবসময় অশুভ নয়। বরং ব্যক্তি কীভাবে নিজের কর্ম ও দায়িত্ব পালন করছেন, তার উপরই নির্ভর করে ফল। শনির মহাদশায় একাধিক গ্রহের অন্তর্দশা আসে, যা জীবনের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে।
শনির অন্তর্দশা
মহাদশা শুরু হয় শনির নিজের অন্তর্দশা দিয়ে। এই সময় দায়িত্ব বৃদ্ধি পায়, কঠোর পরিশ্রম করতে হয় এবং ফল পেতে দেরি হয়। একের পর এক চ্যালেঞ্জ এলেও এই সময়ই ব্যক্তিত্ব দৃঢ় হয় এবং বাস্তব জীবনের শিক্ষা মেলে।
বুধের অন্তর্দশা
শনির মহাদশায় দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে বুধ-এর অন্তর্দশা। চিন্তাশক্তি তীক্ষ্ণ হয়, পরিকল্পনা করার ক্ষমতা বাড়ে এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষা, ব্যবসা বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে উন্নতি সম্ভব।
শুক্রের অন্তর্দশা
এরপর আসে শুক্র-এর অন্তর্দশা। প্রেম, বিবাহিত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক ও বিলাসিতার ক্ষেত্রে ওঠানামা দেখা যায়। আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্য এই সময়ের প্রধান চাবিকাঠি।
সূর্যের অন্তর্দশা
জ্যোতিষ মতে সূর্য ও শনি পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এই সময় অহংবোধ বৃদ্ধি পেতে পারে, কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে মতভেদ দেখা দিতে পারে। পরিবারে বিশেষ করে পিতার সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন হতে পারে।
চাঁদের অন্তর্দশা
শনির মহাদশায় চাঁদ-এর অন্তর্দশা মানসিক পরিবর্তন আনে। একাকিত্ববোধ বাড়তে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে মানসিক দৃঢ়তাও বৃদ্ধি পায়। জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীর পরিবর্তন ঘটে।
শনির মহাদশা অনেকের কাছে ভয়ের হলেও, এটি আসলে আত্মসমালোচনা, পরিশ্রম ও চরিত্র গঠনের সময়। এক মুহূর্তে একাকিত্ব, আবার পরমুহূর্তে সাফল্যের স্বাদ—এই ওঠানামার মধ্য দিয়েই ব্যক্তি আরও পরিণত ও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন।
(Disclaimer: এখানে দেওয়া তথ্য জ্যোতিষশাস্ত্রের সাধারণ বিশ্বাস ও তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। সংবাদ ভবন এটি নিশ্চিৎ করে না।)

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.