গুরুকে দেখে আবেগে ভাসলেন শ্রেয়া ঘোষাল, মঞ্চেই পায়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম

ভারতের সংগীত জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নাম Shreya Ghoshal। তাঁর মধুর কণ্ঠ আজ শুধু দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। অসংখ্য হিট গান, পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি—সবকিছু অর্জন করার পরও তিনি কখনও ভুলে যাননি তাঁর সংগীত শিক্ষার শুরুটা কোথা থেকে হয়েছিল। সম্প্রতি একটি আবেগঘন মুহূর্ত সেই সত্যটাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

জনপ্রিয় গানের রিয়্যালিটি শো Indian Idol-এর মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন শ্রেয়ার শৈশবের সংগীত গুরু Maheshchandra Sharma। বহু বছর পর গুরুকে সামনে পেয়ে যেন আবেগ সামলাতে পারেননি শ্রেয়া। তাঁর চোখে জল চলে আসে, আর সেই মুহূর্তেই তিনি মঞ্চেই গুরুর পায়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন।

কঠিন পরিশ্রমের স্মৃতি মনে করলেন শ্রেয়া

মঞ্চে দাঁড়িয়ে শ্রেয়া তাঁর ছোটবেলার সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, সংগীত শেখার জন্য ছোটবেলায় তাঁকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। রাজস্থানের প্রচণ্ড গরমের মধ্যে জঙ্গল পেরিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বাসে করে তাঁকে গুরুর বাড়িতে যেতে হত।

শ্রেয়া বলেন, দীর্ঘ সেই ক্লান্তিকর যাত্রার পর যখন দূর থেকে গুরুর বাড়িটি চোখে পড়ত, তখন মনে হত যেন কোনো পবিত্র মন্দিরে পৌঁছে গেছেন। এই কথার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা এবং নিষ্ঠা।

মুম্বইয়ে আসার আগে গুরুকে লেখা চিঠি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সঞ্চালক Aditya Narayan একটি পুরনো চিঠি পড়ে শোনান। এই চিঠিটি বহু বছর আগে নিজের গুরুকে লিখেছিলেন শ্রেয়া। তখন তিনি সংগীতকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে বাবার হাত ধরে রাজস্থান থেকে মুম্বইতে পাড়ি দেন।

চিঠিতে তিনি তাঁর স্বপ্ন, আশা এবং গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা লিখেছিলেন। সেই স্মৃতিচারণা শুনে মঞ্চে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

গুরুর গর্বের মুহূর্ত

শিষ্যার সাফল্যে গর্বিত হয়ে মহেশচন্দ্র শর্মা মঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি জানান, সাধারণত মানুষ গুরুর নামেই শিষ্যকে চেনে। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে উল্টোটা ঘটেছে। আজ অনেকেই তাঁকে শ্রেয়া ঘোষালের গুরু হিসেবে চিনে—এটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়।

এই বিশেষ মুহূর্তে তিনি শ্রেয়ার জন্মদিন উপলক্ষে একটি অমূল্য উপহারও দেন। নিজের জীবনের বহু বছরের সাধনায় লেখা ‘বন্দিশ’-এর খাতা তিনি শ্রেয়ার হাতে তুলে দেন। তাঁর কাছে এই খাতা ছিল অমূল্য সম্পদ।

গুরুর আশীর্বাদ পেয়ে আবেগে ভাসলেন শ্রেয়া

গুরুর কাছ থেকে এমন মূল্যবান উপহার পেয়ে শ্রেয়া আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তাঁর চোখে জল এসে যায়। সেই মুহূর্তে তিনি মঞ্চেই গুরুর পায়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন।

বর্তমান সময়ে যখন সাফল্য অনেক সময় মানুষকে অহংকারী করে তোলে, তখন শ্রেয়ার এই আচরণ প্রমাণ করে দেয়—একজন প্রকৃত শিল্পীর মধ্যে বিনয় এবং কৃতজ্ঞতাই সবচেয়ে বড় গুণ।

মঞ্চে খালি গলায় গান

গুরুর অনুরোধে সেই দিন শ্রেয়া মঞ্চে খালি গলায় একটি জনপ্রিয় গানও গেয়ে শোনান—Bairi Piya। তাঁর সুরেলা কণ্ঠে সেই গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যান উপস্থিত সবাই।

এই আবেগঘন মুহূর্ত আবারও মনে করিয়ে দেয়, বড় শিল্পী হওয়ার পেছনে শুধু প্রতিভা নয়, থাকে দীর্ঘ সাধনা, কঠোর পরিশ্রম এবং গুরুর আশীর্বাদ। আর সেই গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা আজও হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছেন শ্রেয়া ঘোষাল।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক