রবিবার আচমকাই দুঃসংবাদে স্তব্ধ হয়ে যায় টেলিভিশন ও অভিনয় জগৎ। জনপ্রিয় অভিনেতা Rahul Arunoday Banerjee শুটিংয়ের কাজে গিয়েছিলেন তালসারিতে একটি ধারাবাহিকের সেটে। সেখানেই ঘটে দুর্ঘটনা। অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। পরে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে আসে, জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সহকর্মী, বন্ধু ও অনুরাগীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। ময়নাতদন্তের পর তমলুক মহকুমা হাসপাতাল থেকে শববাহী গাড়িতে করে অভিনেতার মরদেহ কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়। অভিনেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নাট্যপরিচালক জয়রাজ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও কয়েকজন সঙ্গী হয়ে দেহ নিয়ে শহরে ফেরেন।

কলকাতার বিজয়গড়ে অভিনেতার বাসভবনে পৌঁছনোর পরই দেখা যায় মানুষের ঢল। শেষবারের মতো প্রিয় অভিনেতাকে দেখতে ভিড় জমাতে থাকেন সহকর্মী, বন্ধু এবং অনুরাগীরা। পরিস্থিতি সামলাতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ব্যারিকেড করা হয় আবাসনের সামনে।

রাহুলের বাড়িতে একে একে হাজির হন টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের বহু পরিচিত মুখ। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন Sabyasachi Chakrabarty, Abir Chatterjee, Parambrata Chattopadhyay সহ আরও অনেক শিল্পী ও সাংস্কৃতিক জগতের মানুষ। উপস্থিত ছিলেন গায়ক Rupam Islam এবং অভিনেত্রী Srabanti Chatterjee-ও। সহকর্মীদের মধ্যে অনেকেই আবেগ সামলাতে পারেননি; কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রিয় সহঅভিনেতার নিথর দেহ দেখে।

রাহুলের স্ত্রী Priyanka Sarkar-ও ছেলেকে নিয়ে শ্মশানে পৌঁছন। পরিবারের অনুরোধ ছিল, শেষকৃত্য যেন খুবই ব্যক্তিগত এবং অনাড়ম্বরভাবে সম্পন্ন করা হয়। সেই অনুরোধ মেনেই আয়োজন সীমিত রাখা হয়েছে।

এর আগে অভিনেতার বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ বের করা হলে সহকর্মীরা কাঁধে করে দেহ নিয়ে যান। ফুলে সাজানো শববাহী গাড়িতে করে শুরু হয় শেষযাত্রা। বিজয়গড় থেকে পদযাত্রা করে কেওড়াতলার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় শববাহী গাড়ি। পথে বহু মানুষ ভিড় করে প্রিয় অভিনেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।
শুধু অভিনয় জগতের মানুষই নন, রাজনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শেষযাত্রায় বামপন্থী কর্মী-সমর্থকদেরও দেখা যায়, যাঁরা লাল পতাকা হাতে অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
অবশেষে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে পৌঁছয় অভিনেতার মরদেহ। সেখানে সহকর্মী, বন্ধু ও অনুরাগীদের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই স্মৃতিচারণা করতে থাকেন রাহুলের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের মতে, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহারের জন্য তিনি সবার কাছেই বিশেষ প্রিয় ছিলেন।
এই অকাল প্রয়াণে বাংলা বিনোদন জগতে বড় শূন্যতা তৈরি হল বলে মনে করছেন অনেকেই। পরিবার ও কাছের মানুষদের অনুরোধে অনাড়ম্বরভাবে শেষকৃত্যের মাধ্যমে প্রিয় অভিনেতাকে বিদায় জানানো হচ্ছে। তাঁর সহকর্মী, বন্ধু ও অনুরাগীদের চোখে জল—সবাই মনে করছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অনেক মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.