তালসারিতে শুটিং চলাকালীন ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার প্রায় ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে আসেনি—এমন অভিযোগেই সরব হয়েছে টলিউডের একাংশ। জনপ্রিয় অভিনেতা Rahul Banerjee-এর অকালমৃত্যুকে ঘিরে প্রযোজনা সংস্থা এবং শুটিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। শিল্পীমহলে দাবি উঠেছে, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পরিচালক Arindam Sil। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এত বড় দুর্ঘটনার পরেও সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার তরফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার পর থেকে একাধিক বিভ্রান্তিকর বিবৃতি সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রযোজনা সংস্থার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

অরিন্দম শীল সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন—সমুদ্রে নেমে শুটিং করার আগে আদৌ কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এখনও কেন সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হল না?
তিনি আরও জানতে চান, অন্য রাজ্যে শুটিং করতে গেলে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না। শুটিং ইউনিটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও তাঁর প্রশ্নের কেন্দ্রে এসেছে। জোয়ারের সময় শুটিং করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হল, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট হওয়া দরকার বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর মতে, এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত সাধারণত কোনও অভিনেতা এককভাবে নিতে পারেন না, বরং এটি প্রযোজনা ও পরিচালনা স্তরের বিষয়।
পরিচালকের কথায়, একজন শিল্পীর মৃত্যুর দায় তাঁর উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে তার তীব্র প্রতিবাদ হওয়া উচিত। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, এই ঘটনার সঠিক বিচার হওয়া দরকার।
আইনি পদক্ষেপের পথে পরিবার ও সংগঠন

এদিকে খবর অনুযায়ী, অভিনেত্রী Priyanka Sarkar প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি শিল্পী সংগঠনগুলিও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হচ্ছে। নোটিস পাঠানোর পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শিল্পীমহলের অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ঘাটতি সামনে এসেছে। ফলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কঠোর নিয়ম প্রয়োজন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তাব সামনে আনলেন শুভ্রজিৎ

এই প্রসঙ্গে পরিচালক Subhrajit Mitra বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রস্তাব সামনে এনেছেন। তাঁর মতে, জলাশয়ের কাছাকাছি বা জলের মধ্যে শুটিং হলে প্রত্যেক অভিনেতার পাশে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। শুটিং চলাকালীন সেই উদ্ধারকর্মীকে অভিনেতার খুব কাছাকাছি অবস্থান করতে হবে, যাতে বিপদের সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এছাড়া গভীর জলে শুটিং বা নৌকায় দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে অন্তত দুটি স্পিডবোট প্রস্তুত রাখার কথা বলেছেন তিনি। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পরিচালক।

ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা
শুভ্রজিৎ মিত্র আরও বলেন, আগুনের দৃশ্য বা বিপজ্জনক স্টান্ট থাকলে পেশাদার স্টান্টম্যান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম থাকা অপরিহার্য। একইভাবে, উচ্চতা থেকে শুটিংয়ের ক্ষেত্রে অভিনেতাদের সুরক্ষার জন্য বডি হারনেস ব্যবহার এবং নিচে সুরক্ষিত প্যাড রাখা উচিত।
তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেন—ঝুঁকিপূর্ণ শুটিংয়ের সময় শিল্পী সংগঠন এবং টেকনিশিয়ান গিল্ডের প্রতিনিধিদের সেটে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে নিরাপত্তা নিয়ে নজরদারি বাড়বে।
আউটডোর শুটিংয়ে চিকিৎসা পরিষেবা বাধ্যতামূলক করার দাবি
পরিচালকদের মতে, আউটডোর শুটিং হলে একজন চিকিৎসক এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম সবসময় উপস্থিত থাকা উচিত। দুর্গম এলাকায় শুটিং হলে পুরো সময়জুড়ে একটি ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা দরকার।
শুভ্রজিৎ জানান, তাঁর পরিচালিত সিনেমা Avijatrik এবং Devi Chowdhurani-এর শুটিংয়ের সময় তিনি এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে মেনে চলেছিলেন।
টলিউডে নতুন করে আলোচনায় নিরাপত্তা নীতি
রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর টলিউডে শুটিংয়ের নিরাপত্তা নীতিমালা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিল্পী, পরিচালক এবং কলাকুশলীদের অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে এখনই শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
শিল্পীমহলের দাবি, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার এবং দায়িত্ব নির্ধারণ করা উচিত। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বিধি বাধ্যতামূলক করা হলে ভবিষ্যতে শিল্পীদের কাজের পরিবেশ আরও নিরাপদ হবে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.