ভারতীয় সঙ্গীতজগতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে কিংবদন্তি শিল্পী Asha Bhosle-র প্রয়াণে। প্রায় আট দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি অসংখ্য হিট গান উপহার দিয়েছেন, পেয়েছেন দেশ-বিদেশের অজস্র সম্মান। তবে তাঁর সাফল্য শুধুমাত্র গানের জগতেই সীমাবদ্ধ ছিল না—ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তিনি গড়ে তুলেছিলেন শক্ত ভিত।
রান্নার শখ থেকেই গড়ে ওঠে আন্তর্জাতিক রেস্তরাঁ সাম্রাজ্য
গান গাওয়ার পাশাপাশি আশা ভোঁসলের আরেকটি বড় ভালোবাসা ছিল রান্না। সেই আগ্রহ থেকেই ২০০২ সালে তিনি দুবাইয়ে চালু করেন তাঁর রেস্তরাঁ চেইন Asha’s।
শুধু দুবাইতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই উদ্যোগ। ধীরে ধীরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত, বাহরিন থেকে শুরু করে ব্রিটেনের ম্যাঞ্চেস্টার ও বার্মিংহামের মতো শহরেও ছড়িয়ে পড়ে তাঁর রেস্তরাঁর শাখা। ভারতীয় খাবারের স্বাদকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

কত সম্পত্তি রেখে গেলেন আশা?
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশা ভোঁসলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা। তাঁর আয়ের প্রধান উৎস ছিল—
প্লেব্যাক সিঙ্গিং
অ্যালবাম ও কনসার্ট
রেস্তরাঁ ব্যবসা
এর পাশাপাশি মুম্বই ও পুণেতে তাঁর একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকার মধ্যে বলে জানা যায়।
পুরস্কারে ভরা এক গৌরবময় জীবন

সঙ্গীতজগতে তাঁর অবদানের জন্য পেয়েছেন বহু সম্মান। উল্লেখযোগ্য কিছু হল—
Dadasaheb Phalke Award
Padma Bhushan (২০০৮)
Grammy Awards-এ মনোনয়ন (১৯৯৭)
নাইটিঙ্গেল অফ এশিয়া (১৯৮৭)
ফিল্মফেয়ার, বঙ্গবিভূষণ, মহারাষ্ট্র সম্মান সহ বহু পুরস্কার
এক বহুমুখী প্রতিভার অবসান
Asha Bhosle শুধু একজন গায়িকা ছিলেন না—তিনি ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং রন্ধনশিল্পী। নিজের প্রতিভা ও দূরদর্শিতার জোরে তিনি এমন এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, যা তাঁর অনুপস্থিতিতেও দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁর গান যেমন অমর, তেমনই তাঁর তৈরি ব্যবসায়িক উত্তরাধিকারও আগামী প্রজন্মের কাছে হয়ে থাকবে অনুপ্রেরণা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.