রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হলেও সকালে ঘুম ভাঙার পর অনেকেরই শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঝিমুনি এবং অবসাদ অনুভূত হয়। বিছানা ছেড়ে উঠতেই যেন কষ্ট লাগে। এই সমস্যা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তবে তা অবহেলা না করাই ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইপোথাইরয়েডিজ়ম থাকলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার ফলে সারাদিন ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। পাশাপাশি রক্তাল্পতা বা শরীরে আয়রনের ঘাটতিও অতিরিক্ত দুর্বলতার কারণ হতে পারে।
তবে প্রতিদিনের কিছু সহজ যোগব্যায়াম শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠেই বিছানায় শুয়ে বা বসে কয়েকটি সহজ আসন করলে শরীরের জড়তা কাটে এবং মনও সতেজ থাকে। নিয়মিত অভ্যাসে থাইরয়েডের সমস্যাজনিত ক্লান্তিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
১) সুপ্ত মৎস্যেন্দ্রাসন
এই আসন মেরুদণ্ড নমনীয় রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের জড়তা কমায়। প্রথমে চিৎ হয়ে শুয়ে দুই হাত দু’পাশে ছড়িয়ে দিন। এরপর ডান হাঁটু ভাঁজ করে বাঁ দিকের দিকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ স্বাভাবিক শ্বাস নিন। পরে একইভাবে অন্য পায়েও করুন। এতে কোমর ও পিঠের চাপ কমে।
২) আপনাসন
এই যোগাসন পেটের উপর চাপ সৃষ্টি করে হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। চিৎ হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু বুকের কাছে টেনে আনুন। হাত দিয়ে হাঁটু জড়িয়ে ধরে কয়েক সেকেন্ড থাকুন। পরে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে যান। নিয়মিত করলে শরীরের ক্লান্তি ও অবসাদ কমতে পারে।
৩) আনন্দ বালাসন
এই আসন শরীরকে আরাম দেয় এবং কোমরের পেশি শিথিল করে। শুয়ে থেকে দুই পা বুকের কাছে এনে পায়ের পাতা ধরে রাখতে হবে। এরপর হাঁটু দু’দিকে ছড়িয়ে হালকা দোল খাওয়ার মতো নড়াচড়া করতে পারেন। এতে শরীরের টান কমে এবং মন শান্ত হয়।
৪) ব্রিজ় পোজ়
পিঠ ও কোমরের পেশি মজবুত করতে এই আসন কার্যকর। হাঁটু ভাঁজ করে শুয়ে কোমর ধীরে ধীরে উপরে তুলুন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে আবার নিচে নামিয়ে আনুন। এই ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনে।
৫) সুপ্ত বদ্ধ কোণাসন
এই আসন মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীরকে গভীর বিশ্রাম দিতে সাহায্য করে। দুই পায়ের পাতা জোড়া করে হাঁটু দু’দিকে ছড়িয়ে শুয়ে থাকুন। চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন। কয়েক মিনিট এই ভঙ্গিতে থাকলে শরীর ও মন দু’টিই অনেকটা হালকা লাগে।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাত্র কয়েক মিনিট সময় বের করে এই যোগাসনগুলি অভ্যাস করলে শরীরের ক্লান্তি কমতে পারে। তবে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দুর্বলতা, অবসাদ বা ঝিমুনি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।