একই পরিবারের মধ্যে থেকেও শাশুড়ি ও বউমার সম্পর্ক অনেক সময় টানাপোড়েনের হয়ে ওঠে। প্রজন্মের ফারাক, মতের অমিল এবং জীবনযাপনের পার্থক্য থেকে ছোটখাটো মনোমালিন্য তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে এই অশান্তির প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারের পরিবেশের উপর। বাস্তুশাস্ত্র মতে, বাড়ির কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চললে সম্পর্কের এই দূরত্ব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির ঘরবাড়ির অবস্থান ও সাজসজ্জা মানুষের মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে। তাই প্রথমেই নজর দেওয়া উচিত শোওয়ার ঘরের দিকে। পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ঘর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হলে তা স্থিরতা ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ছেলে ও বউয়ের ঘর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হলে পারিবারিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে মনে করা হয়।
ঘরের রঙ নির্বাচনেও সতর্ক থাকা জরুরি। খুব বেশি গাঢ় বা উজ্জ্বল রঙ অনেক সময় মানসিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাই হালকা, কোমল ও শান্ত রঙ ব্যবহার করলে ঘরের পরিবেশ প্রশান্ত থাকে এবং অকারণ রাগ বা বিরক্তিও কমে।
রান্নাঘরকে বাস্তুশাস্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ধরা হয়। কারণ পরিবারের অধিকাংশ সময়ের কাজকর্ম এই জায়গাকেই কেন্দ্র করে হয়। বাস্তুমতে, বাড়ির মাঝখানে রান্নাঘর থাকলে সংসারে অশান্তি বাড়তে পারে। রান্নাঘরের আদর্শ দিক হল দক্ষিণ-পূর্ব কোণ। পাশাপাশি রান্নাঘরের আসবাব বা ক্যাবিনেটের রঙও উজ্জ্বল ও হালকা হওয়া ভালো। কালো বা অতিরিক্ত গাঢ় রঙ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
সংসারে ইতিবাচক শক্তি বজায় রাখতে ঘরে ধর্মীয় ও প্রাকৃতিক উপাদানের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। অনেকেই বাড়িতে শ্রীকৃষ্ণের চন্দন কাঠের মূর্তি রাখাকে শুভ মনে করেন। এছাড়া তুলসী গাছ সংসারের শান্তি ও শুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালানো পারিবারিক সম্পর্কে মাধুর্য আনতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস।
এছাড়া বাড়িতে জুঁই বা চাঁপা ফুলের গাছ লাগানো কিংবা সুগন্ধি ব্যবহার করলে মন ভালো থাকে এবং পারিবারিক সম্পর্কে কোমলতা বাড়ে। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব দিক বাড়ির সবচেয়ে পবিত্র অংশ। তাই এই জায়গা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। সেখানে আবর্জনা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমতে দিলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নিয়ম মানলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। পারস্পরিক সম্মান, ধৈর্য ও বোঝাপড়াও সমানভাবে জরুরি। তবে বাস্তুর এই ছোট ছোট পরিবর্তন অনেক সময় পরিবারের পরিবেশকে আরও ইতিবাচক ও শান্ত করে তুলতে সাহায্য করতে পারে।