আরজি কর হাসপাতালের মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের নতুন করে উত্তাপ ছড়াল আদালত চত্বরে। এই ঘটনায় আরও তিন জনকে গ্রেফতারের দাবিতে শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হলেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পাশাপাশি সোমনাথ দাস ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় নামের আরও দুই ব্যক্তি।
পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি ছিল। অভিযোগ, নির্যাতিতার দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় নথি তুলে না দিয়েই দ্রুত দেহ দাহের ব্যবস্থা করা হয়। এই সমস্ত ঘটনার পেছনে উল্লিখিত তিন জনের ভূমিকা থাকতে পারে বলেই সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার।
বুধবার আদালতে পরিবারের আইনজীবী দাবি করেন, অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার পর থেকেই কয়েক জন ব্যক্তি অস্বাভাবিক ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় আদালতে। পরিবারের পক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং মৃতদেহ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও প্রভাব খাটানো হয়েছিল।
অন্যদিকে সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতে জানান, তদন্তকারী সংস্থা কাকে গ্রেফতার করবে, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করে। আদালতে সিবিআই সময় চায় নিজেদের বক্তব্য বিস্তারিত ভাবে পেশ করার জন্য। এ প্রসঙ্গে পরিবারের আইনজীবী বলেন, ২০২৪ সালে জমা দেওয়া চার্জশিটে অতিরিক্ত চার্জশিট পেশের কথা বলা হলেও এখনও তা আদালতে জমা পড়েনি।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক জানান, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৫ জুন।
এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে আরজি কর-কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মাকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছিল নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে। ভোটে জয়ী হন নির্যাতিতার মা। পরে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ক্ষমতায় এলে আরজি কর-সহ নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে নতুন কমিশন গঠন করা হবে।
বুধবার বিধানসভায় শপথগ্রহণের দিন থাকলেও আদালতে হাজির হন নির্যাতিতার মা। সেখানে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তাঁর মেয়েই ছিল তাঁর পৃথিবী, তাই এই লড়াইকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.