বর্তমান সময়ে মহিলাদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত হলে শরীরে ক্লান্তি, অবসাদ ও দ্রুত ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেই অনেক ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা বাড়তে পারে। এর ফলে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত মেদ জমতে শুরু করে।
নিয়মিত ওষুধের পাশাপাশি শরীরচর্চাও থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পুশ-আপ এমন একটি ব্যায়াম যা একসঙ্গে পেশি শক্তিশালী করে, ক্যালোরি ঝরাতে সাহায্য করে এবং শরীরের সক্রিয়তা বাড়ায়। বিশেষ করে মহিলাদের পেট, নিতম্ব, হাত ও ঊরুর পেশির জোর বাড়াতে এই ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর।
সবাই জিমে গিয়ে ভারোত্তোলন করতে পারেন না। আবার অনেকের পক্ষে বেশি দৌড়ঝাঁপ করাও সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে বাড়িতেই সহজ কিছু পুশ-আপ নিয়মিত করলে শরীর ফিট থাকার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও উপকার মিলতে পারে।
মেয়েদের জন্য ৫ ধরনের সহজ পুশ-আপ
১) ওয়াল পুশ-আপ
যাঁরা নতুন ব্যায়াম শুরু করছেন, তাঁদের জন্য এটি সবচেয়ে সহজ। দেওয়াল থেকে সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে দুই হাত কাঁধ বরাবর দেওয়ালে রেখে ধীরে ধীরে শরীর সামনে আনতে হবে এবং আবার পিছনে ঠেলে নিতে হবে। এতে কাঁধ, বুক ও হাতের পেশি শক্তিশালী হয়।
২) নি পুশ-আপ
ম্যাটের উপর হাঁটু ভর দিয়ে শরীর সামনের দিকে রেখে এই ব্যায়াম করতে হয়। সাধারণ পুশ-আপের তুলনায় এতে চাপ কম পড়ে। নতুনদের জন্য এটি নিরাপদ এবং কার্যকর একটি উপায়।
৩) স্ট্যান্ডার্ড পুশ-আপ
এটি সবচেয়ে পরিচিত পুশ-আপ। প্ল্যাঙ্কের ভঙ্গিতে শরীর সোজা রেখে কনুই ভাঁজ করে বুক মাটির দিকে নামাতে হয় এবং আবার হাতের জোরে উপরে উঠতে হয়। এতে পুরো শরীরের পেশির ব্যায়াম হয়।
৪) ওয়াইড গ্রিপ পুশ-আপ
এই পদ্ধতিতে হাত দু’টি কাঁধের চেয়ে বেশি দূরে রাখতে হয়। ফলে বুক ও কাঁধের পেশিতে বেশি চাপ পড়ে এবং উপরের অংশের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৫) ইনক্লাইন পুশ-আপ
টেবিল, বেঞ্চ বা উঁচু কোনও জায়গায় হাত রেখে এই পুশ-আপ করা হয়। এতে শরীরের উপর চাপ কিছুটা কম পড়ে, ফলে যাঁরা একেবারে শুরু করছেন, তাঁদের জন্য এটি ভাল বিকল্প হতে পারে।
কেন উপকারী এই ব্যায়াম?
নিয়মিত পুশ-আপ করলে শরীরের পেশি সক্রিয় থাকে, ক্যালোরি খরচ বাড়ে এবং বিপাকক্রিয়া উন্নত হয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। পাশাপাশি শরীরচর্চা হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করতে পারে। তবে যাঁদের গুরুতর থাইরয়েড সমস্যা বা অন্য শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসক বা ফিটনেস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই ব্যায়াম শুরু করা উচিত।