বিয়ের পর কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে মধুচন্দ্রিমার পরিকল্পনা করেন প্রায় সব নবদম্পতিই। বহুদিন ধরেই বিদেশের সমুদ্রসৈকত, পাহাড় কিংবা দ্বীপভ্রমণ নবদম্পতিদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের। কিন্তু বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক সংযমের বার্তার আবহে অনেকেই এখন দেশের মধ্যেই খুঁজছেন বিশেষ অভিজ্ঞতার ঠিকানা। সুখবর হল, ভারতের বুকেই রয়েছে এমন বহু পর্যটনকেন্দ্র, যেগুলির সৌন্দর্য ও পরিবেশ সহজেই বিদেশি গন্তব্যের স্মৃতি উসকে দেয়।
নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড়, ঝর্না, তুষারঢাকা উপত্যকা কিংবা নির্জন দ্বীপ— সবই মিলবে দেশের নানা প্রান্তে। রইল এমন পাঁচটি ভারতীয় গন্তব্যের খোঁজ, যেখানে মধুচন্দ্রিমা হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয়।
কুর্গ: ভারতের স্কটল্যান্ড

কর্নাটকের কোডগু জেলার পাহাড়ি অঞ্চল কুর্গ প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্বপ্নের ঠিকানা। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই অঞ্চলকে অনেকেই “ভারতের স্কটল্যান্ড” বলে থাকেন। কফি বাগান, কুয়াশা ঢাকা পাহাড়, ছোট ছোট ঝর্না এবং আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা মিলিয়ে কুর্গ যেন ছবির মতো সুন্দর।
অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এখানে রয়েছে রিভার র্যাফটিং, ট্রেকিং, কায়াকিং ও জিপলাইনিংয়ের সুযোগ। দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে রাজাসিট পার্ক, অ্যাবে ফলস, তালকাবেরি, নাগরহোল জাতীয় উদ্যান এবং দুবারে হাতি সংরক্ষণ কেন্দ্র। বেঙ্গালুরু থেকে সড়কপথে সহজেই পৌঁছানো যায় এই পাহাড়ি স্বর্গে।
লক্ষদ্বীপ: মলদ্বীপের বিকল্প

সাদা বালির সৈকত, ফিরোজা নীল জল আর প্রবাল দ্বীপ— এই সব মিলিয়ে লক্ষদ্বীপকে অনেকেই ভারতের মলদ্বীপ বলে মনে করেন। আরব সাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা এই দ্বীপপুঞ্জ নবদম্পতিদের জন্য এক অনন্য রোম্যান্টিক গন্তব্য।
অগাতি, বাঙ্গারাম, কদমত বা মিনিকয় দ্বীপে সমুদ্রের ধারে নিরিবিলি সময় কাটানোর পাশাপাশি স্কুবা ডাইভিং, স্নরকেলিং ও অন্যান্য ওয়াটার স্পোর্টসের সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় সামুদ্রিক খাবারও পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ। তবে লক্ষদ্বীপে যাওয়ার আগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
খজ্জিয়ার: পাহাড়ি মিনি সুইৎজারল্যান্ড

হিমাচল প্রদেশের চম্বা জেলার ছোট্ট গ্রাম খজ্জিয়ার যেন সুইৎজারল্যান্ডের কোনও উপত্যকা। বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসের মাঠ, চারপাশে পাইন বন, ছোট্ট লেক আর মেঘে ঢাকা পাহাড়— সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম।
গরমকালেও এখানে থাকে শীতল আবহাওয়া। ট্রেকিং, প্যারাগ্লাইডিং কিংবা জোর্বিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার কার্যকলাপও জনপ্রিয়। খজ্জিয়ার লেক, কালাটপ অভয়ারণ্য এবং প্রাচীন নাগ মন্দির ঘুরে দেখার মতো জায়গা। যারা পাহাড়ে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ।
চিত্রকোট জলপ্রপাত: ভারতের নায়াগ্রা

ছত্তীসগঢ়ের জগদলপুরে অবস্থিত চিত্রকোট জলপ্রপাতকে অনেকেই “ভারতের নায়াগ্রা” নামে চেনেন। বর্ষাকালে ইন্দ্রাবতী নদীর জলপ্রবাহ যখন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন প্রায় ১০০ ফুট উচ্চতা থেকে জলধারা নেমে এসে তৈরি করে অপূর্ব দৃশ্য।
প্রায় এক হাজার ফুট চওড়া এই জলপ্রপাতের চারপাশে রয়েছে সবুজ বনভূমি ও নিরিবিলি পরিবেশ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে কিছু নির্জন মুহূর্ত কাটাতে চাইলে এই জায়গা দারুণ উপযুক্ত।
আন্দামান-নিকোবর: নীল সমুদ্রের রোম্যান্স

স্বচ্ছ নীল জল, নারকেল গাছঘেরা সৈকত এবং দ্বীপজুড়ে সবুজ প্রকৃতি— আন্দামান-নিকোবর যেন এক ট্রপিক্যাল স্বর্গ। অনেকেই এই দ্বীপপুঞ্জের তুলনা করেন থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় দ্বীপগুলির সঙ্গে।
পোর্ট ব্লেয়ার থেকে শুরু হয় আন্দামান সফর। সেলুলার জেল, রস দ্বীপ, নর্থ বে, রাধানগর সৈকত ও হ্যাভলক দ্বীপ পর্যটকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। স্কুবা ডাইভিং, স্নরকেলিং এবং প্রবাল দর্শনের জন্য আন্দামান অন্যতম সেরা জায়গা। নবদম্পতিদের জন্য সমুদ্রের ধারে সূর্যাস্ত উপভোগ করার অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে আজীবনের স্মৃতি।
বিদেশে না গিয়েও দেশের মধ্যেই মিলতে পারে বিশ্বমানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। পাহাড়, সমুদ্র, জলপ্রপাত কিংবা দ্বীপ— ভারতের এই গন্তব্যগুলি শুধু সুন্দরই নয়, বরং রোম্যান্টিক সময় কাটানোর জন্যও আদর্শ। তাই মধুচন্দ্রিমার পরিকল্পনায় বিদেশের বদলে দেশীয় গন্তব্যকেও এবার গুরুত্ব দিতেই পারেন নবদম্পতিরা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.