গরমের দিনে ত্বকের সমস্যা যেন লেগেই থাকে। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলোবালি, দূষণ এবং ত্বকের বাড়তি তেল মিলিয়ে মুখে দেখা দেয় কালচে ভাব, ব্রণ, র্যাশ কিংবা ঘামাচির মতো সমস্যা। এই সময় শুধুমাত্র মুখ ধুলেই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ত্বকের গভীর পরিষ্কারও। সেই কারণেই গরমকালে ‘এক্সফোলিয়েশন’ বা স্ক্রাবিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা।
ত্বকের উপরিভাগে প্রতিনিয়ত নতুন কোষ তৈরি হয় এবং পুরনো কোষ ঝরে যায়। সাধারণত ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু গরমে অতিরিক্ত ঘাম ও তেল জমে গেলে মৃতকোষ সহজে ঝরে যেতে পারে না। ফলে ত্বকের রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাক সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। এর ফলেই ব্রণ, ফুসকুড়ি বা ত্বকের নানা জ্বালাভাব দেখা দেয়।
এই সমস্যা এড়াতে নিয়মিত স্ক্রাবিং প্রয়োজন। তবে বাজারচলতি কেমিক্যালযুক্ত স্ক্রাব সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। তাই ঘরোয়া উপাদানে তৈরি প্রাকৃতিক স্ক্রাব হতে পারে নিরাপদ বিকল্প। তবে স্ক্রাব বেছে নিতে হবে ত্বকের ধরন বুঝে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
যাদের ত্বক খুব তেলতেলে, তাদের এমন স্ক্রাব দরকার যা অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করবে কিন্তু ত্বক শুষ্ক করে দেবে না। মুসুর ডাল, নিমের রস ও সামান্য কর্পূর মিশিয়ে তৈরি স্ক্রাব এ ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। এতে ত্বকের ময়লা পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি ব্রণের ঝুঁকিও কমে।
শুষ্ক ত্বকের জন্য
শুষ্ক ত্বকে গরমের সময় আর্দ্রতার অভাব আরও বেড়ে যায়। ফলে ত্বক ফেটে যাওয়া বা ট্যান পড়ার প্রবণতা বাড়ে। কাঠবাদাম, তরমুজের রস ও দুধের সর দিয়ে তৈরি হাইড্রেটিং স্ক্রাব ত্বকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। এতে ত্বক নরম ও সতেজ থাকে।
মিশ্র ত্বকের জন্য
অনেকের কপাল, নাক ও থুতনি তৈলাক্ত হলেও গাল শুষ্ক থাকে। এই ধরনের ত্বকের জন্য প্রয়োজন এমন স্ক্রাব যা ত্বকের ভারসাম্য বজায় রাখবে। গ্রিন টি, চালের গুঁড়ো ও মধুর মিশ্রণ ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি ব্ল্যাকহেডস কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
সংবেদনশীল ত্বকের জন্য
যাদের ত্বকে সহজেই র্যাশ বা ব্রণ হয়, তাদের শক্ত দানাযুক্ত স্ক্রাব ব্যবহার না করাই ভাল। ওট্স, দই ও পাকা পেঁপে দিয়ে তৈরি মৃদু স্ক্রাব সংবেদনশীল ত্বকের জন্য কার্যকর হতে পারে। এটি ত্বককে পরিষ্কার করার পাশাপাশি জ্বালাভাবও কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমকালে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার এক্সফোলিয়েশন যথেষ্ট। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাব করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক উপাদান বেছে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।