পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল নতুন বিজেপি সরকার। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতার বাইরে থাকা বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে এবং পরে তাঁদের সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে গত বছরই এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা রাজ্যে পাঠানো হয়েছিল। তবে আগের সরকার সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার সেই নীতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিন উত্তরবঙ্গ সফর শেষে নবান্নে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। বৈঠকে বিএসএফ-এর আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে রাজ্যের তরফে বিএসএফ-কে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জমি ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা সিএএ-র সুরক্ষার আওতায় পড়বেন না, তাঁদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। রাজ্য পুলিশ তাঁদের আটক করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে এবং পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, সিএএ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কয়েকটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ বিশেষ সুরক্ষা পাবেন। বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ, যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে এসেছেন, তাঁরা এই আইনের সুবিধা পাবেন। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি হেনস্থা বা আটকানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী থানাগুলিকে বিশেষ নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের ডিজি এবং মুখ্যসচিবকেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্প্রতি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী তিন দেশ থেকে আসা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া ভারতে প্রবেশের ওপর কড়া নজরদারির কথাও আইনে উল্লেখ রয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলতে পারে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থেই এই নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.