Marco Rubio: ১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব! পালাবদলের পর বাংলায় বাড়ছে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব

দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে কলকাতার কূটনৈতিক ইতিহাসে। সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষদিকে ভারত সফরে আসছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট Marco Rubio, আর তাঁর সম্ভাব্য সফরসূচিতে জায়গা পেয়েছে কলকাতাও। যদি এই সফর চূড়ান্ত হয়, তবে ২০১২ সালের পর এই প্রথম কোনও উচ্চপদস্থ মার্কিন বিদেশসচিব পা রাখবেন তিলোত্তমায়।

শেষবার ২০১২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব Hillary Clinton কলকাতা সফরে এসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তারপর একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের ভারত সফর এবং কূটনৈতিক বৈঠক হলেও কলকাতা কার্যত আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরেই ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে মার্কো রুবিওর সম্ভাব্য সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল।

জানা গিয়েছে, আগামী ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ভারত সফরে থাকতে পারেন মার্কো রুবিও। এই সফরে তাঁর মূল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নয়াদিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং কোয়াডভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi, বিদেশমন্ত্রী S. Jaishankar এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী Rajnath Singh-এর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, দিল্লির ব্যস্ত কর্মসূচির মাঝেই একদিনের জন্য কলকাতায় আসতে পারেন মার্কিন বিদেশসচিব। যদিও শহরে তাঁর নির্দিষ্ট কর্মসূচি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে এই সফরের মধ্য দিয়ে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতেও এই সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা, ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা—এই সমস্ত ইস্যুতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিবের উপস্থিতি পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকে নতুন করে সামনে আনতে পারে। নতুন শিল্প বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বন্দরভিত্তিক ব্যবসা কিংবা পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই সফর ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কলকাতা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ইতিহাস অবশ্য সবসময় মসৃণ ছিল না। ১৯৬৮ সালে প্রাক্তন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিশ্বব্যাঙ্ক প্রধান Robert McNamara কলকাতা সফরে এসে বামপন্থী বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক নেতাদের কলকাতামুখী সফর অনেকটাই কমে যায়। যদিও ১৯৯৭ সালে Mother Teresa-র শেষকৃত্যে বিশ্বের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি কলকাতায় এসেছিলেন, তা ছিল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সফর নয়।

এই পরিস্থিতিতে মার্কো রুবিওর সম্ভাব্য কলকাতা সফরকে অনেকেই বাংলার আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবেই দেখছেন। কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি পূর্ব ভারতের কৌশলগত গুরুত্বও এই সফরের মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক