ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়ের উপর ভরসা নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই রান্নাঘরের নানা উপাদান ব্যবহার করে ত্বকের পরিচর্যা করে আসছেন মানুষ। তবে বর্তমানে সামাজিক মাধ্যম ও ইন্টারনেটের দৌলতে নানা ধরনের বিউটি টিপস মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে কিছু উপকারী হলেও, অনেক তথাকথিত ঘরোয়া টোটকা ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, না বুঝে এসব উপাদান ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হয়ে গিয়ে অকালেই বলিরেখা, শুষ্কতা ও সংক্রমণের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিনি দিয়ে স্ক্রাব করা বিপজ্জনক
অনেকেই মনে করেন, চিনি দিয়ে স্ক্রাব করলে ত্বকের ময়লা ও মৃত কোষ সহজে দূর হয়। কিন্তু চিনির দানা তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় তা মুখের কোমল ত্বকে ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি করতে পারে। এর ফলে ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব এমনকি সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ে।

অতিরিক্ত গরম জল ত্বকের আর্দ্রতা কমায়
শীত হোক বা গরম, অনেকেরই গরম জল দিয়ে মুখ ধোয়ার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু নিয়মিত গরম জল ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। এতে ত্বক দ্রুত শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস থাকলে ত্বকে বয়সের ছাপও দ্রুত ফুটে উঠতে পারে।
ব্ল্যাকহেড তুলতে আঠা ব্যবহার করা উচিত নয়
সাম্প্রতিক সময়ে ব্ল্যাকহেড দূর করতে মুখে বিভিন্ন ধরনের আঠা লাগানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই পদ্ধতি ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আঠা ব্যবহারে ত্বকের সূক্ষ্ম ছিদ্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ব্রণে টুথপেস্ট লাগানো ভুল
ব্রণ শুকিয়ে ফেলতে অনেকে টুথপেস্ট ব্যবহার করেন। এতে সাময়িকভাবে ব্রণ কমেছে বলে মনে হলেও, টুথপেস্টের রাসায়নিক উপাদান ত্বকে জ্বালা ও সংক্রমণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও বেশি।
সরাসরি লেবুর রস লাগানো ক্ষতিকর
ত্বক উজ্জ্বল করার আশায় অনেকেই মুখে সরাসরি লেবুর রস ব্যবহার করেন। কিন্তু লেবুর মধ্যে থাকা অ্যাসিড ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট করে দিতে পারে। ফলে রোদে বেরোলেই ত্বকে জ্বালা, কালচে দাগ বা র্যাশের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বেকিং সোডা ত্বকের ভারসাম্য নষ্ট করে
বাড়ি পরিষ্কারে বেকিং সোডা কার্যকর হলেও ত্বকের জন্য এটি মোটেও নিরাপদ নয়। এটি অত্যন্ত ক্ষারীয় হওয়ায় ত্বকের স্বাভাবিক pH-এর ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এর ফলে শুষ্কতা, অ্যালার্জি ও বিভিন্ন চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
ত্বক ভালো রাখতে ঘরোয়া উপায় বেছে নেওয়ার আগে সচেতন হওয়া জরুরি। শুধুমাত্র ইন্টারনেটে দেখে বা অন্যের পরামর্শে কোনও কিছু ব্যবহার না করে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে পদক্ষেপ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।