জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই থেকে শনি তার বক্রী গতি শুরু করতে চলেছে। বর্তমানে শনি মীন রাশির রেবতী নক্ষত্রে অবস্থান করছে এবং বক্রী অবস্থায় রেবতী ও উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্রের মধ্য দিয়ে গমন করবে। পরে ১১ ডিসেম্বর আবার মীন রাশিতে ফিরে আসবে।
শনির এই বক্রী গোচরকে জ্যোতিষশাস্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কারণ শনি কর্মফল, শৃঙ্খলা, দায়িত্ব এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার প্রতীক। তাই এই সময়ে বহু রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে নানা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বৃষ ও সিংহ-সহ মোট পাঁচটি রাশির উপর এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সময়ে আর্থিক চাপ, পারিবারিক অশান্তি, মানসিক উদ্বেগ এবং স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই কঠোর পরিশ্রমের পরেও প্রত্যাশিত সাফল্য না মেলায় হতাশা তৈরি হতে পারে।
বৃষ রাশির উপর প্রভাব

বৃষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই সময় কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সতর্ক থাকা জরুরি। আর্থিক লেনদেনে ভুল সিদ্ধান্ত ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এছাড়া আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সংযত আচরণ করা দরকার। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক বা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ এড়িয়ে চলাই ভালো।
প্রতিকার:
শনিদেবের মন্দিরে সর্ষের তেল অর্পণ করা শুভ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি শনি চালিসা ও হনুমান চালিসা পাঠ করলে মানসিক শান্তি ও ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।
সিংহ রাশির উপর প্রভাব

সিংহ রাশির জাতকদের জন্য শনির বক্রী গতি বিশেষ সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে। পারিবারিক সম্পর্কে দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভাইবোনদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে হতাশা আসতে পারে।
পিতার স্বাস্থ্যের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া গাড়ি চালানোর সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে, কারণ দুর্ঘটনা বা আঘাতের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
এই সময়ে হঠাৎ কোনও ঘটনা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধীরে-সুস্থে পরিস্থিতি বিচার করা জরুরি।
কীভাবে কাটবে এই সময়
জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, শনির বক্রী অবস্থায় ধৈর্য, নিয়মানুবর্তিতা এবং সংযম বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অযথা ঝুঁকি না নেওয়া, আর্থিক পরিকল্পনা করে চলা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখা এই সময়ে উপকারী হতে পারে।
পাশাপাশি নিয়মিত প্রার্থনা, দান-পুণ্য এবং ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখলে শনির নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করা হয়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.