গরমের দিনে ত্বকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অতিরিক্ত ঘাম, ধুলো-ময়লা জমে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ত্বকের আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলা। এই সময় অনেকেই রাসায়নিকযুক্ত ক্লিনজ়ারের বদলে ঘরোয়া উপায়ের উপর ভরসা করছেন। সেই তালিকায় আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কাঁচা দুধ। বহু পুরনো ঘরোয়া রূপচর্চার উপাদান হলেও বর্তমানে সমাজমাধ্যমের প্রভাবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা দুধে থাকা ল্যাক্টিক অ্যাসিড ত্বকের উপর জমে থাকা মৃত কোষ আলগা করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক পরিষ্কার ও মসৃণ দেখাতে পারে। পাশাপাশি এটি রোমকূপের ভিতরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতেও সহায়ক বলে মনে করা হয়। গরমের দিনে ধুলো ও দূষণের কারণে ত্বক সহজেই নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে কাঁচা দুধ প্রাকৃতিক ক্লিনজ়ার হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
এ ছাড়াও কাঁচা দুধে রয়েছে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ডি। ভিটামিন এ ত্বকের নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। অন্য দিকে, ভিটামিন ডি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে ত্বক কিছুটা টানটান ও সতেজ দেখাতে পারে। যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তাঁদের ক্ষেত্রেও কাঁচা দুধ উপকারী হতে পারে, কারণ এতে থাকা ফ্যাট ও প্রোটিন ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

শুধু ত্বক পরিষ্কার করাই নয়, হালকা মেকআপ তুলতেও কাঁচা দুধ ব্যবহার করা যায়। অনেকেই তুলোয় কাঁচা দুধ নিয়ে মুখে আলতো করে মাখেন। বৃত্তাকারে হালকা মালিশ করার পর কয়েক মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক পরিষ্কার ও নরম অনুভূত হতে পারে। কেউ কেউ আবার ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ মুছেও নেন।
আরও ভাল ফল পেতে অনেকে কাঁচা দুধের সঙ্গে মধু, বেসন বা হলুদ মিশিয়ে ফেস প্যাক তৈরি করেন। তবে যাঁদের ত্বক খুব স্পর্শকাতর, তাঁদের নতুন কোনও উপাদান ব্যবহারের আগে হাতে বা কনুইয়ের কাছে অল্প করে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভাল। এতে অ্যালার্জি বা জ্বালাভাবের আশঙ্কা কম থাকে।
গরমের দিনে ত্বককে সতেজ ও পরিষ্কার রাখতে তাই সহজলভ্য এই রান্নাঘরের উপাদানটি আবারও জায়গা করে নিচ্ছে দৈনন্দিন রূপচর্চায়।