কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকের কাছেই পরিচিত। খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম, পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, মানসিক চাপ কিংবা জীবনযাপনের নানা পরিবর্তনের কারণে মাঝেমধ্যে এই সমস্যা দেখা দিতেই পারে। তবে যদি টানা কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য চলতে থাকে, তা হলে সেটিকে সাধারণ সমস্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য কখনও কখনও বৃহদান্ত্রের কার্যকারিতার জটিলতার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
কী এই স্লো ট্রানজ়িট কনস্টিপেশন?
স্লো ট্রানজ়িট কনস্টিপেশন (Slow Transit Constipation বা STC) এমন একটি অবস্থা, যেখানে বৃহদান্ত্র বা কোলনের ভেতর মল স্বাভাবিক গতিতে এগোতে পারে না। ফলে বর্জ্য পদার্থ দীর্ঘ সময় অন্ত্রের মধ্যে আটকে থাকে এবং মলত্যাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে ফাইবারের অভাব বা কম জলপান দায়ী হতে পারে। কিন্তু এসটিসি-র ক্ষেত্রে সমস্যার মূল কারণ অনেক সময় কোলনের পেশি বা স্নায়ুর কার্যক্ষমতার ঘাটতি। এর ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক সঙ্কোচন ও প্রসারণের ছন্দ নষ্ট হয়ে যায় এবং মল ধীরে ধীরে জমতে থাকে।
কেন হতে পারে এই সমস্যা?
স্লো ট্রানজ়িট কনস্টিপেশনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। যেমন—
*দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকা
*শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
*মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
*হরমোনজনিত বিভিন্ন সমস্যা
*অতিরিক্ত ক্যাফিন বা চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ
*অনিয়মিত ঘুম ও বিশ্রামের অভাব
এই সব কারণ একত্রে বা পৃথকভাবে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
কোন লক্ষণগুলি অবহেলা করা উচিত নয়?
১. মলের সঙ্গে রক্ত দেখা যাওয়া
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অর্শ বা মলদ্বারে ক্ষত তৈরি হলে রক্তপাত হতে পারে। তবে বারবার মলের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে বা মলের রং অস্বাভাবিক কালচে হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এটি বৃহদান্ত্রের আরও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
২. অকারণে ওজন কমে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় কোনও পরিবর্তন না এনেও যদি ওজন দ্রুত কমতে থাকে, তা হলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। দীর্ঘস্থায়ী পাচনতন্ত্রের সমস্যা বা বৃহদান্ত্রের অসুস্থতার ক্ষেত্রেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
৩. দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা
গ্যাস বা অম্বলের কারণে সাময়িক পেটব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পেটে ব্যথা, মোচড়, তলপেটে চাপ অনুভব করা বা মলত্যাগের পরও অস্বস্তি থেকে গেলে চিকিৎসা জরুরি। এর সঙ্গে বমি বা বমিভাব থাকলেও সতর্ক হওয়া উচিত।
৪. নিয়মিত পেট ফাঁপা
পেট প্রায় সারাক্ষণ ফেঁপে থাকা বা অস্বাভাবিক ভারী লাগা বৃহদান্ত্রের কার্যকারিতার সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এই ধরনের উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৫. পারিবারিক ইতিহাস
পরিবারের কারও যদি বৃহদান্ত্র বা কোলনের রোগের ইতিহাস থাকে, তা হলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে এবং তার সঙ্গে রক্তপাত, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা বা অকারণে ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা গেলে চিকিৎসা সহজ হয় এবং জটিলতার ঝুঁকিও কমে।
দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যকে শুধু অস্বস্তিকর অভ্যাসগত সমস্যা বলে মনে না করে শরীরের সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা জরুরি। সময়মতো সচেতনতা ও চিকিৎসাই বৃহদান্ত্রের সম্ভাব্য জটিলতা থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.