ভারত থেকে বিদেশে, স্বাদের সফর: প্রবাসী ভারতীয়দের হাত ধরে বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় হয়েছে যে ৩ খাবার

খাবারের কোনও ভৌগোলিক সীমানা নেই। মানুষের সঙ্গে যেমন ভাষা, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি এক দেশ থেকে অন্য দেশে পৌঁছে যায়, তেমনই ভ্রমণ করে খাবারও। বহু ভারতীয় পদ বিদেশে গিয়ে স্থানীয় উপকরণ, রান্নার কৌশল এবং স্বাদের সঙ্গে মিশে সম্পূর্ণ নতুন পরিচয় পেয়েছে। আজ সেই সব পদ কেবল ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থানীয়দের কাছেও সমান জনপ্রিয়।

মায়ানমারে ইডলির নতুন রূপ
দক্ষিণ ভারতের অন্যতম পরিচিত খাবার ইডলি। সাধারণত সম্বর ও নারকেলের চাটনির সঙ্গে এটি পরিবেশন করা হয়। কিন্তু মায়ানমারে এই ইডলির স্বাদ পাওয়া যায় একেবারেই অন্যভাবে।

ভারত থেকে বিদেশে, স্বাদের সফর: প্রবাসী ভারতীয়দের হাত ধরে বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় হয়েছে যে ৩ খাবার
ভারত থেকে বিদেশে, স্বাদের সফর: প্রবাসী ভারতীয়দের হাত ধরে বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় হয়েছে যে ৩ খাবার

ঊনবিংশ শতকে তামিল ব্যবসায়ীরা রেঙ্গুনে বসতি গড়ে তোলেন। তাঁদের উদ্যোগেই একটি মুরুগান মন্দির এবং টিফিন ঘর গড়ে ওঠে, যেখানে ইডলি পরিবেশন করা হত। ধীরে ধীরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও এই খাবার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে মায়ানমারের ঐতিহ্যবাহী নারকেলের দুধ-ভিত্তিক স্যুপ ‘খাও স্যুয়ে’-র সঙ্গে ইডলি পরিবেশন শুরু হয়। ভারতীয় ও বার্মিজ খাদ্যসংস্কৃতির এই মেলবন্ধন আজও বিশেষ আকর্ষণ।

গিয়ানায় পেঁড়া থেকে ‘পীরা’
ঊনবিংশ শতকে বহু ভারতীয় শ্রমিককে ব্রিটিশ গিয়ানায় আখের খেতে কাজের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের সঙ্গে পৌঁছেছিল উত্তর ভারতের জনপ্রিয় মিষ্টি পেঁড়ার রেসিপিও।
তবে সেখানে পর্যাপ্ত টাটকা দুধ না থাকায় স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে কনডেন্সড মিল্ক ও চিনি ব্যবহার করে নতুনভাবে মিষ্টি তৈরি করা হয়। সময়ের সঙ্গে ভাষারও পরিবর্তন ঘটে। ‘পেঁড়া’ উচ্চারণ বদলে ধীরে ধীরে ‘পীরা’ নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে গিয়ানার বহু উৎসব ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে এই মিষ্টি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিখ্যাত ‘ডাবলস’
ভারতীয় ছোলে-ভাটুরেও বিদেশে গিয়ে পেয়েছে নতুন পরিচয়। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ভারতীয় অভিবাসীদের হাত ধরেই এই খাবারের বিবর্তন ঘটে।
স্থানীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি ভাটুরের আকার ও স্বাদ বদলে যায়। এতে হলুদ যোগ করে তৈরি করা হয় নরম রুটি, যা ‘বারা’ নামে পরিচিত হয়। তার উপর পরিবেশন করা হত মশলাদার ছোলার তরকারি ও বিভিন্ন ধরনের চাটনি। ক্রেতারা একটি খেয়ে তৃপ্ত না হওয়ায় দুইটি বারা একসঙ্গে দিয়ে মাঝখানে ছোলার পুর ভরে পরিবেশন শুরু হয়। সেই থেকেই খাবারটির নাম হয়ে যায় ‘ডাবলস’। আজ এটি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড।

খাবারের মধ্যেই ইতিহাসের ছাপ
ভারতীয়দের অভিবাসনের ইতিহাস শুধু মানুষের যাত্রার গল্প নয়, এটি খাবারেরও ভ্রমণকাহিনি। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ এবং স্থানীয় উপকরণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে বহু পরিচিত ভারতীয় পদ বদলে নতুন পরিচয় পেয়েছে। এই সব ফিউশন খাবার প্রমাণ করে, সংস্কৃতির আদান-প্রদানে রান্নাঘরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর সেই কারণেই ইডলি, পীরা কিংবা ডাবলসের মতো পদ আজ দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মিলনের সুস্বাদু স্মারক হয়ে রয়েছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক