বায়োপসি নয়, বিশেষ ব্রাশেই এক ঘণ্টায় মুখের ক্যানসার শনাক্তের আশা দেখাল নতুন গবেষণা

মুখের ক্যানসার বা ওরাল ক্যানসার বিশ্বের অন্যতম সাধারণ এবং প্রাণঘাতী ক্যানসারের মধ্যে একটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি যত দ্রুত ধরা পড়ে, চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে। কিন্তু বর্তমানে মুখের ভেতরের ক্ষত বা আলসার ক্যানসারে রূপ নিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সাধারণত বায়োপসির উপর নির্ভর করতে হয়। এই পরীক্ষা সময়সাপেক্ষ, অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্রণাদায়ক এবং ছোট অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।

এই পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখিয়েছেন লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। তাঁরা এমন একটি বিশেষ ব্রাশ তৈরি করেছেন, যার সাহায্যে মুখের ভেতরের ক্ষতস্থান থেকে সহজেই কোষ সংগ্রহ করা সম্ভব। গবেষকদের দাবি, এই পদ্ধতিতে রোগীকে কাটাছেঁড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি প্রায় যন্ত্রণাহীন।

নতুন প্রযুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, সংগৃহীত কোষ পরীক্ষা করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রাথমিকভাবে বোঝা যেতে পারে ক্যানসার কোষের উপস্থিতি রয়েছে কি না। ফলে রোগ নির্ণয়ের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসতে পারে।

বায়োপসি নয়, বিশেষ ব্রাশেই এক ঘণ্টায় মুখের ক্যানসার শনাক্তের আশা দেখাল নতুন গবেষণা
বায়োপসি নয়, বিশেষ ব্রাশেই এক ঘণ্টায় মুখের ক্যানসার শনাক্তের আশা দেখাল নতুন গবেষণা

গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই বিশেষ ব্রাশ ক্ষতের উপরিভাগ থেকে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত কোষ সংগ্রহ করতে সক্ষম। সেই কোষগুলির বৃদ্ধি ও বিভাজনের ধরণ বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়। প্রচলিত বায়োপসিতে ক্ষতস্থান থেকে টিস্যুর একটি অংশ কেটে নেওয়া হয়, যা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াটি দক্ষতার সঙ্গে না করলে মুখের নরম টিস্যু, মাড়ি বা দাঁতের আশপাশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। তুলনায় নতুন ব্রাশভিত্তিক পদ্ধতিকে আরও নিরাপদ ও সহজ বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ মুখ, গলা ও ঘাড়ের বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং কয়েক লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে এই রোগে। ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি, তালু, গলা, চোয়াল কিংবা লালাগ্রন্থি— মুখগহ্বরের প্রায় যে কোনও অংশেই এই ক্যানসার দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার মুখের ক্যানসারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ। ধূমপান, গুটখা, খৈনি, পানমশলা ও সুপারি সেবনের অভ্যাস এই রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত মদ্যপানের সঙ্গেও ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। যারা একই সঙ্গে ধূমপান ও মদ্যপান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। এছাড়া মুখের পরিচ্ছন্নতার অভাব, দাঁতের দীর্ঘদিনের সংক্রমণ বা ক্ষয় এবং মাড়ির সমস্যাও মুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

যদিও এই নতুন ব্রাশভিত্তিক পরীক্ষার ফলাফল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক, তবুও এটি সর্বত্র চিকিৎসায় ব্যবহার করার আগে আরও বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল গবেষণা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। সফলভাবে সেই ধাপগুলি সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে মুখের ক্যানসার দ্রুত, সহজ ও কম যন্ত্রণায় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক