রজোনিবৃত্তি (Menopause) নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পর্যায়। এই সময়ে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনের মতো গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করে। এর প্রভাবে অনেকের শরীরে ও মনে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই সমস্যাগুলি নিয়ন্ত্রণে মেনোপজ়াল হরমোন থেরাপি (Menopausal Hormone Therapy বা MHT) নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। তবে এই চিকিৎসা সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়।
কেন করা হয় মেনোপজ়াল হরমোন থেরাপি?
রজোনিবৃত্তির পরে হরমোনের ঘাটতির কারণে অনেক নারীর মধ্যে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা যায়, যেমন—

*হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া বা হট ফ্ল্যাশ
*রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
*মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন
*মেজাজের ওঠানামা
*যোনিপথের শুষ্কতা
*হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া
*বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ
*অবসাদ বা মানসিক অস্বস্তি
এই ধরনের উপসর্গ যদি দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে, তবে চিকিৎসক রোগীর শারীরিক অবস্থা বিচার করে হরমোন থেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন।
কীভাবে দেওয়া হয় এই চিকিৎসা?
হরমোন থেরাপিতে শরীরে ইস্ট্রোজেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রজেস্টেরন সরবরাহ করা হয়। এটি ইনজেকশন, ট্যাবলেট, জেল বা প্যাচ— বিভিন্ন উপায়ে দেওয়া হতে পারে। কোন পদ্ধতি উপযুক্ত হবে, তা সম্পূর্ণ রোগীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।
জরায়ু থাকলে ও না থাকলে চিকিৎসার পার্থক্য
রোগীর জরায়ুর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসার ধরন বদলে যায়।
*যাঁদের হিস্টেরেকটমির মাধ্যমে জরায়ু অপসারণ করা হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অনেক সময় শুধুমাত্র ইস্ট্রোজেন দেওয়া হয়।
*যাঁদের জরায়ু রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেনের পাশাপাশি প্রজেস্টেরনও প্রয়োজন হতে পারে, যাতে জরায়ুর আস্তরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ঝুঁকি কমে।
সবাই কি এই থেরাপি করাতে পারেন?
না। হরমোন থেরাপি শুরু করার আগে রোগীর স্বাস্থ্য, বয়স এবং পূর্ববর্তী রোগের ইতিহাস মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের পরিস্থিতিতে এই চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—
*৬০ বছরের বেশি বয়স
*রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা
*হৃদ্রোগ
*দীর্ঘদিনের লিভারের অসুখ
*কিডনির জটিলতা
*স্তন ক্যানসার বা তার পারিবারিক ইতিহাস
এ ধরনের ক্ষেত্রে হরমোন থেরাপি শুরু করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।
গবেষণা কী বলছে?
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু নারীর ক্ষেত্রে হরমোন থেরাপি উপসর্গ কমাতে কার্যকর হলেও, কিছু ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসার, হৃদ্রোগ বা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসার সম্ভাব্য লাভ ও ঝুঁকি—দুটিই বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
রজোনিবৃত্তি মানেই হরমোন থেরাপি প্রয়োজন— এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেক নারীর উপসর্গ স্বাভাবিকভাবেই নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং তাঁদের এই চিকিৎসার দরকার হয় না। যাঁদের সমস্যা দৈনন্দিন জীবনকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে, তাঁদের ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী থেরাপি শুরু করা উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের ইচ্ছায় বা অন্যের পরামর্শে কখনও হরমোন থেরাপি শুরু করা উচিত নয়। সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের পরেই এই চিকিৎসা গ্রহণ করা নিরাপদ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.