প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার কেন দেরিতে ধরা পড়ে? ঝুঁকি, লক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসার বিস্তারিত

প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার দীর্ঘদিন ধরেই সবচেয়ে জটিল ক্যানসারগুলির মধ্যে একটি বলে বিবেচিত। এর প্রধান কারণ, রোগটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনও স্পষ্ট উপসর্গ তৈরি করে না। ফলে অনেক সময় রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়ে যায়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এখন এই রোগের নির্ণয় ও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে এবং পরিকল্পিত চিকিৎসা শুরু হলে অনেক রোগী দীর্ঘদিন ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।

অগ্ন্যাশয়ের ভূমিকা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

অগ্ন্যাশয় শরীরের এমন একটি অঙ্গ, যা খাবার হজমে সহায়ক বিভিন্ন এনজাইম তৈরি করে এবং ইনসুলিনসহ গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এই অঙ্গের কোষে ক্যানসার তৈরি হলে শুরুতে তা অনেক সময় নীরব থাকে, তাই রোগটি সহজে ধরা পড়ে না।

প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার কেন দেরিতে ধরা পড়ে? ঝুঁকি, লক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসার বিস্তারিত
প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার কেন দেরিতে ধরা পড়ে? ঝুঁকি, লক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসার বিস্তারিত

কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যেমন—

*৬০ বছরের বেশি বয়স
*ধূমপানের অভ্যাস
*দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস
*স্থূলতা
*দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিস
*পরিবারে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস
*BRCA1, BRCA2 বা PALB2-এর মতো নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন

যে লক্ষণগুলি অবহেলা করবেন না

*প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ অস্পষ্ট হলেও কিছু পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি।
*অকারণে দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
*ক্ষুধামান্দ্য
*দীর্ঘদিন ধরে পেট বা পিঠে ব্যথা
*৫০ বছরের পরে হঠাৎ নতুন করে ডায়াবেটিস ধরা পড়া
*জন্ডিস
*প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া
*মল ফ্যাকাশে বা সাদা রঙের হওয়া

এই ধরনের উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কেন রোগটি দেরিতে ধরা পড়ে?

অগ্ন্যাশয় শরীরের গভীরে অবস্থিত হওয়ায় ছোট টিউমার সাধারণ পরীক্ষায় সহজে ধরা পড়ে না। এছাড়া পেটব্যথা, বদহজম বা পিঠব্যথার মতো সাধারণ সমস্যার সঙ্গে উপসর্গ মিলে যাওয়ায় অনেকেই গুরুত্ব দেন না। অগ্ন্যাশয়ের মাথার অংশে ক্যানসার হলে তুলনামূলক দ্রুত জন্ডিস দেখা দিতে পারে। কিন্তু অন্য অংশে ক্যানসার হলে দীর্ঘদিন কোনও স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে।

রোগ নির্ণয়ে কী কী পরীক্ষা করা হয়?

বর্তমানে চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ের জন্য একাধিক আধুনিক পরীক্ষা ব্যবহার করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী করা হতে পারে—

*রক্ত পরীক্ষা
*আল্ট্রাসোনোগ্রাফি
*কনট্রাস্ট সিটি স্ক্যান
*এমআরআই
*এন্ডোস্কোপিক আল্ট্রাসাউন্ড (EUS)
*বায়োপসি
*PET-CT স্ক্যান
*CA 19-9 টিউমার মার্কার পরীক্ষা
*প্রয়োজনে জিনগত পরীক্ষা

স্ক্রিনিং কি সবার জন্য প্রয়োজন?

বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ করা হয় না। তবে যাঁদের পরিবারে একাধিক সদস্য এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বা যাঁদের বংশগত ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকা উচিত।

চিকিৎসায় এসেছে বড় পরিবর্তন
আগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারকেই প্রথম চিকিৎসা হিসেবে ধরা হতো। এখন রোগের পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।

অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রথমে কেমোথেরাপির মাধ্যমে টিউমারের আকার কমানোর চেষ্টা করা হয়। প্রয়োজনে রেডিওথেরাপিও দেওয়া হয়। এরপর অস্ত্রোপচার করলে সফলতার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। কিছু উন্নত পর্যায়ের রোগীর ক্ষেত্রেও আধুনিক কেমোথেরাপি ও বিশেষ ধরনের রেডিওথেরাপির সাহায্যে পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচার সম্ভব হচ্ছে।

এছাড়া বর্তমানে চিকিৎসায় টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, প্রিসিশন মেডিসিন, রোবোটিক সার্জারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অস্ত্রোপচারের আগে প্রস্তুতির গুরুত্ব
শুধু অপারেশন করাই নয়, এখন অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিয়মিত ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি এবং সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি রোগীর চিকিৎসার ফল আরও ভালো করতে সাহায্য করে।

ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?

সব ক্ষেত্রে এই ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

*ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করুন।
*স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
*নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
*সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
*ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
*অ্যালকোহল সেবন এড়িয়ে চলুন।

উপসংহার
প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার এখনও একটি গুরুতর রোগ হলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এর মোকাবিলা আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে। রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা, ঝুঁকির কারণগুলো জানা এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবনযাপনের সম্ভাবনাও অনেকটাই বেড়ে যায়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক