সারাদিনের ব্যস্ততার পর রাতে আবার আলাদা করে ভাত, ডাল কিংবা রুটি-তরকারি রান্না করা অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর। এমন পরিস্থিতিতে এক হাঁড়ির রান্না হতে পারে দারুণ সমাধান। একই পাত্রে চাল, সবজি, মশলা ও প্রোটিন একসঙ্গে রান্না করলে যেমন সময় বাঁচে, তেমনই বাসনও কম মাজতে হয়। শুধু খিচুড়িই নয়, এক হাঁড়িতে তৈরি করা যায় আরও নানা সুস্বাদু পদ। তার মধ্যে পিৎজা রাইস, থেচা পোলাও এবং চিকেন পিশপাশ বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
১. পিৎজা রাইস: ভাতে পিৎজার স্বাদ
বাড়ির ছোটদের জন্য এটি হতে পারে দারুণ চমক। প্রথমে সামান্য তেলে কুচোনো রসুন ও পেঁয়াজ হালকা ভেজে নিন। এরপর পছন্দমতো চিকেন, সসেজ, পনির কিংবা অন্য কোনও প্রোটিন যোগ করতে পারেন। সঙ্গে দিন সুইট কর্ন, ক্যাপসিকাম বা বেল পেপারের মতো সবজি।

সব উপকরণ সামান্য ভাজা হয়ে গেলে ঝরঝরে সেদ্ধ ভাত মিশিয়ে নিন। এবার পিৎজা সস, অরিগ্যানো এবং প্রয়োজনে সামান্য গোলমরিচ দিয়ে ভালোভাবে মেশান। উপর থেকে গ্রেট করা চিজ ছড়িয়ে দিন। চাইলে আগে থেকে হালকা সাঁতলানো পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকামও ছড়িয়ে দিতে পারেন। শেষে সামান্য চিলি ফ্লেক্স দিয়ে ঢেকে কম আঁচে কয়েক মিনিট রান্না করুন। চিজ গলে গেলেই তৈরি পিৎজার স্বাদের মজাদার রাইস।
২. থেচা পোলাও: ঝালপ্রেমীদের জন্য বিশেষ পদ
যাঁরা ঝাল খেতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য থেচা পোলাও একটি অসাধারণ বিকল্প। এই রান্নার মূল আকর্ষণ থেচা মশলা। শুকনো কড়াইয়ে কাঁচালঙ্কা, রসুন ও চিনেবাদাম হালকা ভেজে ধনেপাতার সঙ্গে বেটে নিন।
এরপর প্রেসার কুকার বা গভীর পাত্রে তেল গরম করে পেঁয়াজ ভেজে আলু ও পনির যোগ করুন। সামান্য ভাজার পর থেচা মশলা মিশিয়ে কষিয়ে নিন। এরপর ফেটানো টক দই দিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। প্রয়োজনমতো গরম জল এবং আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা গোবিন্দভোগ বা বাসমতী চাল যোগ করুন। পরিমিত জল ব্যবহার করে প্রেসার কুকারে ২-৩টি সিটি দিলেই ঝরঝরে ও সুগন্ধি থেচা পোলাও পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।
৩. চিকেন পিশপাশ: হালকা অথচ পুষ্টিকর খাবার
চিকেন পিশপাশ এমন একটি পদ, যা খেতে যেমন আরামদায়ক, তেমনই পুষ্টিগুণেও ভরপুর। রান্নার আগে মুরগির মাংসে লেবুর রস, লবণ ও গোলমরিচ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন।
এরপর আলু, গাজর, কাঁচা পেঁপে ও বিনস বড় টুকরো করে কেটে নিন। কড়াই বা প্রেসার কুকারে তেল গরম করে তেজপাতা ও গোলমরিচের ফোড়ন দিন। তারপর আদা-রসুন কুচি দিয়ে চিকেন ও সবজি একসঙ্গে নেড়ে নিন। ধোয়া গোবিন্দভোগ চাল মিশিয়ে সমপরিমাণ দুধ ও গরম জল ঢেলে দিন। প্রেসার কুকারে ২-৩টি সিটি দিলেই রান্না সম্পূর্ণ হবে। এই পদটি পোলাওয়ের মতো শুকনো নয়; বরং হালকা নরম ও খিচুড়ির মতো মোলায়েম, যা শিশু থেকে বয়স্ক—সকলেরই পছন্দ হতে পারে।
এক হাঁড়ির রান্নার বাড়তি সুবিধা
এক হাঁড়িতে রান্না করলে সময় ও শ্রম দুটোই কম লাগে। একই সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও সবজির সুষম মিশ্রণ পাওয়া যায়। ব্যস্ত কর্মজীবন, ছাত্রছাত্রী কিংবা ছোট পরিবারের জন্য এই ধরনের রান্না যেমন সুবিধাজনক, তেমনই স্বাদেও কোনও কমতি থাকে না। প্রতিদিনের একঘেয়ে রাতের খাবারে নতুনত্ব আনতে এই তিনটি পদ সহজেই জায়গা করে নিতে পারে আপনার রান্নাঘরে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.