দেবী দুর্গার ১০৮টি রূপের মধ্যে অন্যতম হলেন মা বিপত্তারিণী। ‘বিপত্তারিণী’ শব্দের অর্থ—যিনি সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে ভক্তদের রক্ষা করেন। বাংলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু বছর ধরে বিবাহিত মহিলারা স্বামী, সন্তান ও পরিবারের মঙ্গল, দীর্ঘায়ু এবং সুখ-সমৃদ্ধির কামনায় নিষ্ঠাভরে এই ব্রত পালন করে আসছেন।
২০২৬ সালেও রথযাত্রা ও উল্টোরথের মধ্যবর্তী সময়ে দু’দিন পালিত হবে বিপত্তারিণী পুজো। যারা প্রথম দিনে পুজো করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে আরও একটি সুযোগ।
বিপত্তারিণী পুজোর দিনক্ষণ ২০২৬
২০২৬ সালের পঞ্জিকা অনুযায়ী, জুলাই মাসে নিম্নলিখিত দু’দিন বিপত্তারিণী ব্রত পালিত হবে—
১৮ জুলাই ২০২৬ (শনিবার), ১ শ্রাবণ
২১ জুলাই ২০২৬ (মঙ্গলবার), ৪ শ্রাবণ
রথযাত্রা থেকে উল্টোরথের মধ্যবর্তী বিশেষ শনিবার ও মঙ্গলবার বিপত্তারিণী ব্রত পালনের জন্য শুভ বলে মনে করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই সময়ে দেবীর আরাধনা করলে সংসারের নানা বাধা-বিপত্তি, রোগ-শোক ও অর্থকষ্ট দূর হয় এবং সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
শুভ সময় ও তিথি
২১ জুলাই, মঙ্গলবার পালিত হবে বিপত্তারিণী ব্রত।
তিথি: আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষ
সপ্তমী তিথি থাকবে সকাল ৭টা ১৯ মিনিট ২৪ সেকেন্ড পর্যন্ত
এরপর শুরু হবে অষ্টমী তিথি, যা সারারাত বজায় থাকবে
পুজোর উপকরণ ও বিশেষ গুরুত্ব
বিপত্তারিণী পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ‘১৩’ সংখ্যার বিশেষ গুরুত্ব। পুজোর প্রায় সমস্ত উপকরণই তেরো সংখ্যার হিসেবে নিবেদন করা হয়।
পুজোর থালায় রাখতে হবে—
ঘট
আম্রপল্লব
শীষযুক্ত ডাব
বিশেষ নৈবেদ্য
১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো
১৩টি দূর্বা
১৩ রকমের ফুল
১৩ রকমের ফল
১৩ গাছি লাল সুতো
১৩টি পান
১৩টি সুপুরি
বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে এই সমস্ত উপচার নিবেদন করলে মা বিপত্তারিণী সন্তুষ্ট হন।
ব্রতের নিয়ম
বিপত্তারিণী ব্রত পালনের প্রস্তুতি শুরু হয় পুজোর আগের দিন থেকেই।
পুজোর আগের দিন সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হয়।
পুজোর দিন উপবাস থেকে দেবীর পুজো করতে হয়।
অঞ্জলি দেওয়ার পর প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে উপবাস ভঙ্গ করা হয়।
পুজোর দিন চাল বা গমজাত খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ।
১৩টি লুচি ও ১৩ রকমের ফল প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করার নিয়ম রয়েছে।
ডোর ধারণের নিয়ম
পুজোর শেষে ১৩ গিঁট দেওয়া লাল সুতো বা ‘ডোর’ ধারণ করা হয়।
মহিলারা বাম হাতে ডোর বাঁধেন।
পুরুষরা ডান হাতে ডোর বাঁধেন।
অন্তত তিন দিন এই পবিত্র সুতো ধারণ করা আবশ্যক।
কী করবেন, কী করবেন না
যা করবেন
পুজোর আগের দিন ও পুজোর দিন নিরামিষ খাবার গ্রহণ করুন।
ভক্তিভরে দেবীর আরাধনা করুন।
পুজোর শেষে নিয়ম মেনে ১৩টি লুচি ও ১৩ রকমের ফল প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করুন।
পরিষ্কার ও পবিত্র স্থানে পুজোর আয়োজন করুন।
যা করবেন না
পুজোর আগে বা পুজোর দিন আমিষ খাবেন না।
চাল বা গম দিয়ে তৈরি খাবার খাবেন না।
অপরিচ্ছন্ন স্থানে পুজো করবেন না।
পুজোর সময় অযথা কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
*শ্রাবণের পাঁচ সোমবারে শিবলিঙ্গে কী অর্পণ করবেন? শাস্ত্রসম্মত উপাচারে মিলতে পারে মহাদেবের আশীর্বাদ
ভক্তদের বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও নিয়ম মেনে বিপত্তারিণী ব্রত পালন করলে সংসারের অশুভ শক্তি দূর হয় এবং পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.