২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিউ জার্সির একটি বাড়িতে আছড়ে পড়া উল্কাপিণ্ডের পরীক্ষায় মিলেছে প্রাচীন লবণাক্ত তরলের চিহ্ন, জৈব যৌগ ও অ্যামিনো অ্যাসিড। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এতে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলেনি; বরং মহাকাশে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান তৈরির সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। দিনটা আর পাঁচটা দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে উঠল একটি বাড়ি। মহাকাশ থেকে ছুটে আসা একটি পাথর ছাদ ভেদ করে সোজা গিয়ে পড়ল শোওয়ার ঘরে। ছাদে তৈরি হল গর্ত, ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল কালো পাথরের টুকরো ও ধুলো। সঙ্গে ছিল অদ্ভুত সালফারের মতো গন্ধ।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির হিলসবোরো এলাকায়। তার আগে দিনের আলোয় নিউ ইয়র্কের আকাশে একটি উজ্জ্বল উল্কা দেখা গিয়েছিল। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় মহাজাগতিক পাথরটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩২ হাজার মাইল, অর্থাৎ সেকেন্ডে প্রায় ১৪.৪ কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজ্য থেকে সেই উল্কার আলো দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেই উল্কাপিণ্ডের আসল রহস্য সামনে আসে পরে।
উল্কার ভিতরে কী পাওয়া গেল?
বিজ্ঞানীরা পাথরটির নমুনা বিশ্লেষণ করে প্রাচীন লবণাক্ত তরলের চিহ্ন, বিভিন্ন ধরনের জৈব যৌগ এবং অ্যামিনো অ্যাসিড শনাক্ত করেছেন। এগুলোর কয়েকটি পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত রাসায়নিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত। তবে এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল—এই আবিষ্কারকে উল্কাপিণ্ডে এলিয়েন বা প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
বরং গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে। মহাকাশের গ্রহাণু ও অন্যান্য মহাজাগতিক পাথরের মধ্যে জটিল জৈব রাসায়নিক উপাদান তৈরি বা সংরক্ষিত হতে পারে। পরবর্তীতে সেই ধরনের পাথর পৃথিবীতে এসে পৌঁছালে, তার সঙ্গে প্রাণের উৎপত্তির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু রাসায়নিক উপাদানও পৃথিবীতে আসতে পারে।
পৃথিবীতে প্রাণ এল কীভাবে?
পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের উৎপত্তি ঠিক কীভাবে হয়েছিল, তার সম্পূর্ণ উত্তর এখনও বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। তবে একটি দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক ধারণা হল, পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসে অসংখ্য গ্রহাণু ও উল্কা এখানে আছড়ে পড়েছিল। সেই মহাজাগতিক পাথরগুলির মাধ্যমে পৃথিবীতে জল, কার্বনসমৃদ্ধ জৈব অণু, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং অন্যান্য রাসায়নিক যৌগ এসে থাকতে পারে। অর্থাৎ প্রাণ সরাসরি মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে এসেছিল—এমন দাবি নয়; বরং প্রাণ তৈরির প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পরিবেশ গড়ে তুলতে মহাজাগতিক বস্তুগুলির ভূমিকা থাকতে পারে।
তাহলে কি এলিয়েনের সংকেত?
না। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যকে এলিয়েনের সংকেত বা ভিনগ্রহের প্রাণের প্রমাণ বলা ঠিক হবে না। এই উল্কাপিণ্ডের গুরুত্ব অন্য জায়গায়। এটি বিজ্ঞানীদের আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে যে, সৌরজগতের প্রাচীন সময়ে মহাকাশে কী ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলত এবং সেই প্রক্রিয়ার তৈরি উপাদান কীভাবে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে।
একটি সাধারণ দেখতে কালো পাথর তাই খুলে দিয়েছে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে আরও বড় এক প্রশ্ন—জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদানগুলোর কিছু কি পৃথিবীর বাইরেই তৈরি হয়েছিল?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন বিজ্ঞানীদের নজরে সেই মহাজাগতিক পাথর।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.