থাইরয়েডের সমস্যা হলে ওজনের পরিবর্তন, মেজাজের ওঠানামা বা শরীরে ফোলা ভাবের মতো উপসর্গের কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু থাইরয়েডের সঙ্গে চোখের সমস্যারও গভীর সম্পর্ক থাকতে পারে। চোখ অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া, চোখের মণি যেন বাইরে বেরিয়ে আসছে মনে হওয়া কিংবা চোখের পাতা গুটিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। এর নেপথ্যে থাকতে পারে গ্রেভস আই ডিজ়িজ়, যাকে থাইরয়েড আই ডিজ়িজ়ও বলা হয়।
গ্রেভস আই ডিজ়িজ় কী?
গ্রেভস আই ডিজ়িজ় একটি অটোইমিউন রোগ। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তনের সঙ্গে এই রোগের সম্পর্ক রয়েছে। তবে থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর পেছনে জিনগত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।
এই রোগে চোখের চারপাশের পেশি, স্নায়ু ও চর্বির অংশে প্রদাহ এবং ফোলা তৈরি হয়। ফলে চোখের কোটরের ভিতরে চাপ বাড়তে থাকে এবং চোখের মণি সামনের দিকে বেরিয়ে আসার মতো দেখায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ‘প্রপটোসিস’ বলা হয়।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
গ্রেভস আই ডিজ়িজ়ের ক্ষেত্রে চোখের চেহারায় বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন—
*চোখ অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া
*চোখের মণি সামনের দিকে বেরিয়ে আসার মতো মনে হওয়া
*চোখের পাতা গুটিয়ে যাওয়া
*চোখে ব্যথা বা অস্বস্তি
*চোখ শুকিয়ে যাওয়া বা জ্বালা করা
*দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
*দু’টি করে দেখা বা ডাবল ভিশন
*চোখের চারপাশের চামড়া ফুলে যাওয়া
*চোখের নীচে চামড়া গুটিয়ে থলির মতো দেখানো
চোখের পাতা গুটিয়ে গেলে অনেক সময় মনে হয়, ব্যক্তি যেন পলক না ফেলে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। চোখের পেশিতে প্রদাহ বাড়লে দৃষ্টির উপরেও প্রভাব পড়তে পারে।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?
থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেই যে গ্রেভস আই ডিজ়িজ় হবে, এমন নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে অটোইমিউন রোগের ইতিহাস রয়েছে এবং যাঁরা ধূমপান করেন, তাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মহিলাদের মধ্যেও এই রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
থাইরয়েডের মাত্রা বার বার ওঠানামা করলে বা চিকিৎসা চলাকালীন চোখের নতুন কোনও উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো জরুরি।
চোখ ফুলে গেলে কী করবেন?
চোখের আকৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন, চোখ অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া, চোখের মণি বাইরে বেরিয়ে আসার মতো দেখা, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া কিংবা ডাবল ভিশনের মতো সমস্যা হলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শুধু থাইরয়েডের ওষুধ খেয়ে চোখের সমস্যাটি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
রোগের তীব্রতা ও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রদাহ কমাতে স্টেরয়েড বা অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়া হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। সমস্যা গুরুতর হলে অস্ত্রোপচারের কথাও চিকিৎসক বিবেচনা করতে পারেন।
মাথা ঘোরা, কানে তালা বা বদ্ধভাব? সাধারণ দুর্বলতা নাকি ভার্টিগোর ইঙ্গিত
তাই থাইরয়েডের পাশাপাশি চোখের পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দিন। চোখের চেহারা বা দৃষ্টিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.