দিনের মধ্যে বারবার মাথা ঘুরছে? অনেকেই এমন সমস্যাকে অ্যাসিডিটি, সময়মতো না খাওয়া, শরীরে দুর্বলতা কিংবা ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কিন্তু মাথা ঘোরার সঙ্গে যদি চারপাশ ঘুরছে বলে মনে হয়, কানে চাপ বা বদ্ধভাব, শোঁ শোঁ শব্দ কিংবা শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকে, তা হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ, এগুলি অন্তঃকর্ণের সমস্যাজনিত ভার্টিগোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
মাথা ঘোরা আর ভার্টিগো কি এক?
সাধারণ দুর্বলতা বা শরীরে পানিশূন্যতার কারণে মাথা হালকা লাগতে পারে। আবার হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে চোখে অন্ধকার দেখা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতিও হতে পারে। অন্য দিকে, ভার্টিগোর ক্ষেত্রে অনেক সময় মনে হয় চারপাশ বা নিজের শরীরই যেন ঘুরছে। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, ভারসাম্য রাখতে সমস্যা কিংবা হাঁটতে অসুবিধাও দেখা দিতে পারে।
তাই শুধু ‘মাথা ঘুরছে’ বলেই কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। মাথা ঘোরার ধরন এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য উপসর্গ খেয়াল করা জরুরি।
কানে তালা লাগার সঙ্গে মাথা ঘোরার সম্পর্ক কী?
শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে অন্তঃকর্ণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই জায়গায় রয়েছে শ্রবণের জন্য দায়ী ককলিয়াও। ফলে অন্তঃকর্ণে কোনও সমস্যা হলে মাথা ঘোরার পাশাপাশি কানে বদ্ধভাব, শোঁ শোঁ শব্দ বা শুনতে সমস্যা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে এক কানে হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার সঙ্গে মাথা ঘোরা, টিনিটাস বা কানে চাপ অনুভূত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কখন বিষয়টি বেশি গুরুত্বের?
যদি এক কানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা শুরু হয় এবং পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যায়, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অনেক সময় মানুষ এটিকে কানের ময়লা, সর্দি বা সাধারণ কানের সমস্যা ভেবে অপেক্ষা করেন। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হতে পারে।
বারবার মাথা ঘোরার ওষুধ খেয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সমস্যার আসল কারণ খুঁজে বের করাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক কান পরীক্ষা, শ্রবণ পরীক্ষা, ব্যালান্স টেস্ট বা ইমেজিংয়ের পরামর্শ দিতে পারেন।
মাথা ঘুরলে আপাতত কী করবেন?
মাথা ঘোরার সময় হঠাৎ উঠে দাঁড়াবেন না। নিরাপদ জায়গায় বসে বা শুয়ে পড়ুন। সম্ভব হলে শান্ত ও কম আলোযুক্ত ঘরে বিশ্রাম নিন এবং মাথা কম নাড়াচাড়া করুন।
উঠতে হলে প্রথমে কিছুক্ষণ বিছানার ধারে বসুন, তার পর ধীরে দাঁড়ান। বমি হলে অল্প অল্প করে জল পান করুন। উজ্জ্বল আলো, টিভি বা মোবাইলের স্ক্রিনের মতো যে বিষয়গুলি মাথা ঘোরার অনুভূতি বাড়ায়, সেগুলি এড়িয়ে চলুন।
এই সময় গাড়ি চালানো, সিঁড়িতে ওঠা কিংবা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কোলেস্টেরল কমবে এক ডোজ়েই? নতুন জিন-এডিটিং ইঞ্জেকশন ঘিরে আশার আলো
চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
মাথা ঘোরা যদি বারবার হয়, তার সঙ্গে কানে বদ্ধভাব, টিনিটাস বা শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকে, তা হলে বিষয়টিকে শুধু সাধারণ দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.