দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে মেরামত শেষ হয়েছে নিউ ফরাক্কার ধসে যাওয়া রেললাইনের। শনিবার মেরামতির কাজ শেষ হওয়ার পর ওই আপ লাইনে সফলভাবে ট্রায়াল রানও করা হয়। কিন্তু ট্রায়াল রানে সাফল্য মিললেও যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে এখনই ঝুঁকি নিতে চাইছে না রেল। ফলে নির্ধারিত আপ লাইনের বদলে ঘুরপথে চালানো হচ্ছে ট্রেন।
গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ফরাক্কা এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টির জেরে নিউ ফরাক্কা ও তিলডাঙার মধ্যবর্তী রেলপথের বাঁধ বরাবর মাটি বসে যায়। আপ ও ডাউন লাইনের মধ্যবর্তী অংশ দিয়ে জল চুঁইয়ে ঢোকার পাশাপাশি আপ লাইনের পাশের একটি পুকুরের জলও পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। এর ফলে ব্যাপক মাটি ক্ষয় হয়ে নরম হয়ে যায় জমি। শেষ পর্যন্ত বসে যায় আপ লাইনের ট্র্যাক।
বিষয়টি প্রথম নজরে আসে বর্ষাকালীন নজরদারিতে থাকা রেলকর্মীদের। এরপর পার্মানেন্ট ওয়ে ইন্সপেক্টর এবং জরুরি মেরামতি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সঙ্গে সঙ্গে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় মেরামতির কাজ। শনিবার মেরামতি শেষ হওয়ার পর ওই লাইনে ট্রায়াল রান করা হয়। ট্রায়াল সফল হলেও যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে এখনও সতর্ক রেল কর্তৃপক্ষ। কারণ, সদ্য মেরামত করা অংশে ফের মাটি বসে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তাই আপাতত ঝুঁকি না নিয়ে বিকল্প পথে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছিল, হাওড়া থেকে আসা শতাব্দী এক্সপ্রেস নিউ ফরাক্কা জংশনে ঢোকার জন্য তিলডাঙা থেকে এস কেবিন হয়ে ধসে যাওয়া আপ লাইন ব্যবহার করবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন করা হয়। তিলডাঙা থেকে বল্লালপুরের দিকে ট্রেন ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ আজিমগঞ্জের দিক থেকে যে রুট দিয়ে নিউ ফরাক্কা জংশনে প্রবেশ করা যায়, সেই পথেই চালানো হচ্ছে ট্রেন। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সমস্ত ট্রেনের ওই আপ লাইন দিয়ে চলার কথা ছিল, সেগুলিকেও আপাতত তিলডাঙা থেকেই ডাইভার্ট করা হচ্ছে। মেরামতির পর ট্রায়াল সফল হলেও নিয়মিত ট্রেন চলাচলের আগে আরও পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা যাচাই করতে চাইছে রেল।
আরও পড়ুন,
জলের ওপর ভেসে বেড়াচ্ছে আস্ত দ্বীপ, রয়েছে গাছপালাও! কীভাবে এল, জানলে অবাক হবেন
এদিকে, নিউ ফরাক্কার রেলপথে ধস নামার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে জানিয়েছেন, কী কারণে এই ধস নামল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। বিশেষ করে অতিরিক্ত বৃষ্টির জল, রেললাইনের পাশের জলাশয় এবং বাঁধের মাটি ক্ষয়ের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে।
ফলে ট্রায়াল রানে সাফল্য এলেও আপাতত স্বাভাবিক রুটে ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে সতর্কতাই অবলম্বন করছে রেল। যাত্রী নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই বিকল্প পথে পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.