Hanuman Ansh: ভাগ্য বদলের গল্প যে কখনও কখনও সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়, তারই উদাহরণ ২৫ বছরের সুনীল লোধি। দৃষ্টিহীন এই তরুণ একসময় লোকাল ট্রেনে একতারা বাজিয়ে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আজ তাঁর কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে বড় পর্দায়। ভক্তিমূলক ছবি ‘হনুমান অংশ’-এ তাঁর গাওয়া ‘ম্যায়নে তেরে হি ভরোসে’ গানটি ইতিমধ্যেই শ্রোতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ডের বাসিন্দা সুনীলের সঙ্গীতে কোনও প্রথাগত তালিম নেই। কিংবদন্তি গায়িকা লতা মঙ্গেশকরের গান শুনেই গানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তৈরি হয়। ধীরে ধীরে নিজেই গান শেখেন। গ্রামের বিভিন্ন ভজন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে লোকাল ট্রেনেও একতারা হাতে গান শোনাতেন তিনি।
তবে সুনীলের জীবনে বড় পরিবর্তন আসে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। ‘বুন্দেলি দুনিয়া’ নামে একটি পেজে তাঁর গাওয়া বিভিন্ন গান প্রকাশিত হতে থাকে। তাঁর ‘দুলা বন কে আ গৈ’ গানটি বহু মানুষের নজর কাড়ে। এরপর হনুমান ভজন ‘মোর সংকট কে কাটাইয়া’ কার্যত ভাইরাল হয়ে যায়। গানটির ভিডিয়ো প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষেরও বেশি ভিউ পায়। রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন সুনীল।
সেই ভাইরাল গানই শেষ পর্যন্ত বদলে দেয় তাঁর ভাগ্যের চাকা। সুনীলের কণ্ঠ নজরে আসে চিত্রনির্মাতা ও সঙ্গীত প্রযোজক পঙ্কজ ভিআরকের। ইউটিউবে গান শুনতে গিয়ে সুনীলের স্বাভাবিক, সুরেলা কণ্ঠে মুগ্ধ হন তিনি। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর সুনীলের ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন পঙ্কজ।
এরপর তাঁর ডাকেই প্রথমে ইন্দোর এবং পরে মুম্বইয়ে পাড়ি দেন সুনীল। স্বপ্নের শহরে পৌঁছে মুম্বইয়ের সাই বাবা স্টুডিওতে তাঁর কণ্ঠে প্রায় আটটি গান রেকর্ড করা হয়। সেই গানগুলির মধ্যে প্রথম গান হিসেবে ‘ম্যায়নে তেরে হি ভরোসে’ জায়গা করে নিয়েছে ‘হনুমান অংশ’ ছবিতে।
আরও পড়ুন,
‘বাবা-মা যদি দেখতেন…’, D.Litt সম্মান পেয়ে আবেগঘন স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত
নিজের এই অভাবনীয় যাত্রা নিয়ে সুনীল বলেন, তিনি একতারা বাজিয়েই স্টুডিওতে গানটি রেকর্ড করে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। সেই সময় তাঁর ধারণাই ছিল না যে তাঁর কণ্ঠ কোনও বড় বাজেটের সিনেমার অংশ হয়ে যাবে।
লোকাল ট্রেনের কামরা থেকে মুম্বইয়ের স্টুডিও, আর সেখান থেকে বড় পর্দা—সুনীল লোধির এই পথচলা শুধু সাফল্যের গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলার এক অনুপ্রেরণাদায়ক কাহিনি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.