১৪ বছর ধরে নিঃসন্তান বৃদ্ধ দম্পতির সেবা, উইলে মিলেছিল সম্পত্তি! পালিত পুত্রের আত্মঘাতীতে চাঞ্চল্য

দীর্ঘদিন ধরে নিঃসন্তান এক দম্পতির দেখাশোনা করেছিলেন। চিকিৎসা থেকে শুরু করে শেষকৃত্যের যাবতীয় দায়িত্বও পালন করেছিলেন দূর সম্পর্কের আত্মীয় পলাশ বাগচী। অভিযোগ, সেই কারণেই বৃদ্ধ দম্পতি তাঁদের সম্পত্তি পলাশের নামে উইল করে দিয়েছিলেন। কিন্তু দম্পতির মৃত্যুর পরই সম্পত্তি নিয়ে শুরু হয় বিবাদ। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় পলাশ ও তাঁর পরিবারকে বাড়ি থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপরই নদিয়ার বাড়িতে গিয়ে আত্মঘাতী হন পলাশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার গড়িয়া এলাকায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সবিতা ঘোষ এবং অমল ঘোষের কোনও সন্তান ছিল না। নদিয়া থেকে কলকাতায় এসে তাঁদের বাড়িতে থাকতে শুরু করেছিলেন পলাশ বাগচী। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে ওই বৃদ্ধ দম্পতির দেখাশোনা করতেন তিনি। তাঁদের চিকিৎসা করানো থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং পরবর্তীতে পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম—সবই পলাশ করেছিলেন বলে পরিবারের দাবি।

অভিযোগ, পলাশের এই দায়িত্বের কথা মাথায় রেখেই অমল ও সবিতা ঘোষ তাঁদের সম্পত্তি পলাশের নামে উইল করে দেন। সেই উইল অনুযায়ী পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতেই বসবাস করছিলেন পলাশ। কিন্তু দম্পতির মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িটি দখলের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ। পলাশকে বারবার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের। পরিবারের অভিযোগ, এর মধ্যেই একদল দুষ্কৃতী পলাশের উপর হামলা চালায়। তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি সাদা কাগজে জোর করে সই করিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় বিপুল ঘোষ, শ্যামল ঘোষ, সজল ঘোষ-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

পলাশের পরিবারের দাবি, বাড়ির উইল থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক মিটার—একাধিক নথি তাঁদের দখলে ছিল। তা সত্ত্বেও কোনও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তাঁদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে আতঙ্কে ওই পরিবার এলাকা ছেড়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন পলাশ। শেষ পর্যন্ত নদিয়ার বাড়িতে গিয়ে তিনি আত্মঘাতী হন বলে পরিবারের দাবি। ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুন,
ছেলে বেঁচে থাকুক… দিল্লিতে বাড়ি ভেঙে মৃত্যু ১৯ বছরের অর্পিতের, শোকের মধ্যেও কর্নিয়া দান পরিবারের

পলাশের দিদি প্রিয়া বাগচীর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উপরও হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, লাগাতার চাপ ও হুমকির জেরেই তাঁর ভাই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পরিবারের আরও দাবি, সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলা বারুইপুর আদালতে বিচারাধীন। সেই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই কীভাবে তাঁদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

20260908 125211
দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিকাশ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন বলে পরিবারের দাবি। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের তদন্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক