‘বাবা-মা যদি দেখতেন…’, D.Litt সম্মান পেয়ে আবেগঘন স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত

দীর্ঘদিনের সঙ্গীত সাধনার স্বীকৃতি পেলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত। ডায়মন্ড হারবার উইমেনস ইউনিভার্সিটির তরফে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচর (D.Litt) ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। গত ৩১ অগস্ট রাজ্যপাল আর এন রবি এবং মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে শিল্পীর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়।

বাংলা সঙ্গীতের পাশাপাশি হিন্দি, উর্দু, তামিল, তেলুগু, ইংরেজি এবং অসমিয়া-সহ মোট ন’টি ভাষায় গান গেয়েছেন স্বাগতালক্ষ্মী। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩০০-রও বেশি অ্যালবাম এবং প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি গান। শুধু গান গাওয়াই নয়, বহু গানে সুরও দিয়েছেন তিনি।

রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে তাঁর গবেষণামূলক ও সৃষ্টিশীল কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতবিতান’-এর প্রায় ২০২৩টি গান মাত্র ৮০ দিনের মধ্যে রেকর্ড করেছিলেন তিনি। তাঁর তৈরি ‘একলা গীতবিতান’ বাংলা সঙ্গীত ও সাহিত্যের জগতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বভারতীর স্বরবিতানভুক্ত গানগুলি একক কণ্ঠে রেকর্ড করার এই উদ্যোগ তাঁর সঙ্গীতসাধনার এক অনন্য নজির।

এ ছাড়াও ‘রবি রামায়ণ’, ‘গীতাঞ্জলি’, ‘এবং গীতবিতান’, ‘গীতবিতান এবং’, ‘গীতাবিতান’, ‘গ্যালাক্সি’, ‘গান যদি গল্প হতো’ এবং ‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনায় নজরুল’-এর মতো একাধিক উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে তাঁর। ‘রবি রামায়ণ’-এ রবীন্দ্রনাথের ৪০টি গান অবলম্বনে রামায়ণের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। আবার ‘গীতবিতান এবং’-এ রবীন্দ্রনাথের সুর না হওয়া বা সুর হারানো ১৫০টি গানে নতুন করে সুরারোপ করা হয়েছে।

নজরুলের সৃষ্টিকেও নিজের কাজের মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন স্বাগতালক্ষ্মী। ‘মা তোর পীঠস্থান’-এ ৫১টি শক্তিপীঠকে কেন্দ্র করে নজরুলের ৫১টি মাতৃসঙ্গীত উপস্থাপন করেছেন তিনি। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের ৫৩টি গানের ইংরেজি ট্রান্সক্রিয়েশন নিয়েও কাজ করেছেন।

আরও পড়ুন,
DeSu7: পুরনো রসায়নে ফের মুগ্ধ করলেন দেব-শুভশ্রী, ‘দেশু ৭’-এর গানে নস্ট্যালজিয়ার ছোঁয়া

কোভিডের সময়েও থেমে থাকেনি তাঁর সঙ্গীতচর্চা। লকডাউনের সময়ে ১০০০ দিনে ১০০০টি ভিডিয়ো তৈরি করে বিনা অর্থে ইউটিউবে গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি। তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গীতচর্চা, গবেষণা এবং বাংলা সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিশেষ মুহূর্তে বাবা-মায়ের কথাই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে শিল্পীর। সম্মানটি তাঁদেরই উৎসর্গ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন,
‘আমিষ নিয়ে ভেজিটেরিয়ানরা এত বাতেলা মারে…’, বাগেশ্বর বাবাকে তীব্র আক্রমণ বঙ্গ গায়িকা মেখলা দাশগুপ্তের

স্বাগতালক্ষ্মীর কথায়, “এই পুরস্কার বাবা-মা দেখলে আরও বেশি খুশি হতেন। তবে আমার কাজ সম্মানিত হয়েছে, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।” দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনের নানা কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এই D.Litt সম্মান তাই তাঁর কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিজের সঙ্গীতসাধনার এক আবেগঘন স্বীকৃতিও বটে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক