মালদহের ভূতনিতে বন্যার জলে ডুবে মৃত্যু ৪ বছরের শিশুর, এখনও জলমগ্ন ৫৯ গ্রাম

গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির জেরে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মালদহের ভূতনি এলাকায়। ভেঙে যাওয়া বাঁধের অংশ চওড়া হয়ে যাওয়ায় হু হু করে জল ঢুকে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। একাধিক বাড়ির একতলা জলের তলায় চলে গিয়েছে। কোথাও আবার রাস্তাঘাটও ডুবে থাকায় নৌকাই হয়ে উঠেছে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। এরই মধ্যে বন্যার জমা জলে ডুবে মৃত্যু হল চার বছরের এক শিশুর।

মৃত শিশুর নাম সাফিউর রহমান। তাঁর বাড়ি উত্তর চণ্ডীপুরের পূর্ব সামিরুদ্দিন টোলা এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বাড়িতেই থাকত সাফিউর। তাঁর বাবা পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং গঙ্গার জলস্তর বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই সাফিউরদের বাড়িতেও জল ঢুকতে শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে বাড়ির একতলা প্রায় সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যায়। পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে দোতলায় আশ্রয় নেন।

জানা গিয়েছে, সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আচমকাই জমা জলে পড়ে যায় সাফিউর। বেশ কিছুক্ষণ জলের মধ্যে পড়ে থাকার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ভূতনি থানার পুলিশ নৌকায় করে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পর ভূতনিতে বন্যার জলে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনে। এর আগে শনিবার উত্তর চণ্ডীপুরের নাজিরুদ্দিন টোলা গ্রামের বাসিন্দা অনিকুল হক নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পাশের একটি গর্তে পড়ে যান তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

20260913 120400
প্রতিকী ছবি

এদিকে এখনও ভয়াবহ জলমগ্ন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকা। ৫৯টি গ্রাম এখনও জলের তলায় বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। বহু আবাদি জমি প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তাতেও জল উঠে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভূতনির বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকও করেছেন তিনি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামবাসীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার কাজও চলছে।

তবে জল না নামা পর্যন্ত আতঙ্ক কাটছে না ভূতনির বাসিন্দাদের। দ্রুত জলস্তর কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এই আশাতেই দিন গুনছেন প্লাবিত এলাকার মানুষ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক