প্রকৃতির রহস্যের যেন শেষ নেই। এমন অনেক উদ্ভিদ রয়েছে, যাদের জীবনধারণের পদ্ধতি সাধারণ গাছপালার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এবার থাইল্যান্ডের জঙ্গলে এমনই এক বিরল ফুলের সন্ধান মিলেছে, যা সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে। নেই সবুজ পাতা, নেই ক্লোরোফিল—তবুও দিব্যি টিকে রয়েছে এই আশ্চর্য উদ্ভিদ।
উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম থিসমিয়া ডেমনা (Thismia demnа)। অস্বাভাবিক গাঢ় রং এবং শিংয়ের মতো আকৃতির কারণে বিজ্ঞানীরা একে ‘ডিমন ফ্লাওয়ার’ বা ‘শয়তানের ফুল’ নামে ডাকছেন। থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের থং ফা ফাম জাতীয় উদ্যানের ঘন জঙ্গলে মাটির কাছাকাছি এই বিরল উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সাধারণত গাছপালা সূর্যের আলো, জল এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরি করে। কিন্তু থিসমিয়া ডেমনার ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই আলাদা। এই উদ্ভিদের শরীরে ক্লোরোফিল নেই। ফলে সাধারণ সবুজ উদ্ভিদের মতো সালোকসংশ্লেষ করে খাবার তৈরি করার ক্ষমতাও নেই তার।
তাহলে কীভাবে বেঁচে থাকে এই অদ্ভুত ফুল?
বিজ্ঞানীদের মতে, এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে মাটির নীচে। থিসমিয়া ডেমনা মাটির নীচে থাকা ছত্রাকের সঙ্গে বিশেষ ধরনের সম্পর্ক তৈরি করে। সেই সম্পর্কের মাধ্যমেই উদ্ভিদটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে। অর্থাৎ সূর্যের আলোয় নিজের খাবার তৈরি করার পরিবর্তে মাটির নীচের ছত্রাকের জগতের উপর নির্ভর করেই তার জীবনধারণ।
এই উদ্ভিদকে খুঁজে পাওয়াও বেশ কঠিন। থিসমিয়া গোত্রের উদ্ভিদ সাধারণত জঙ্গলের মাটিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতার স্তরের নীচে কিংবা তার আশপাশে লুকিয়ে থাকে। বছরের বেশিরভাগ সময় তাদের অস্তিত্ব প্রায় চোখেই পড়ে না। ফুল ফুটলেই কেবল মাটির কাছ থেকে তাদের উপস্থিতি বোঝা যায়।
থিসমিয়া গোত্রের উদ্ভিদকে অনেক সময় ‘ফেয়ারি ল্যান্টার্নস’ নামেও ডাকা হয়। এই গোত্রের উদ্ভিদও বিশ্বে খুব বেশি নেই। এখনও পর্যন্ত ৫০টিরও কম প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তাই থিসমিয়া ডেমনার সন্ধান শুধু একটি অদ্ভুত দেখতে ফুল আবিষ্কারের ঘটনা নয়। এই আবিষ্কার বিরল উদ্ভিদগুলির বিস্তার, পরিবেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং বিবর্তনের ইতিহাস সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন প্রশ্ন ও সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
আরও পড়ুন,
বাগেশ্বর বাবা-কাণ্ডে বিস্ফোরক অরিত্র, ‘বাঙালি বিরোধী সরকারি নির্দেশকে অস্বীকার করতে হবে’
প্রকৃতির একেবারে অন্ধকার জগতে, সূর্যের আলো ছাড়াই যে জীবন টিকে থাকতে পারে—‘শয়তানের ফুল’ যেন তারই এক রহস্যময় উদাহরণ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.