Vastu: বিশ্বকর্মাকে হিন্দু ধর্মে দেবশিল্পী হিসেবে পুজো করা হয়। কারিগরি, নির্মাণকাজ, যন্ত্রপাতি এবং শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কাছে বিশ্বকর্মা পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তবে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বিশ্বকর্মার সঙ্গে বাস্তুশাস্ত্রেরও গভীর যোগ রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে বাস্তুর আদিপুরুষ হিসেবেও মানা হয়।
বিশ্বাস করা হয়, বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে কিছু বিশেষ নিয়ম ও টোটকা পালন করলে বাড়ির নেতিবাচক প্রভাব দূর করা যায় এবং কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায় শুভ ফল লাভের পথ প্রশস্ত হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই দিনে কোন পাঁচটি টোটকা পালন করার কথা বলা হয়।
১. কাজের যন্ত্রের সামনে রাখুন ময়ূরের পালক
বিশ্বকর্মা পুজোর দিন কাজের প্রধান যন্ত্রপাতি যেমন ল্যাপটপ, সেলাই মেশিন বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিষ্কার করে তার সামনে সিঁদুরের তিলক দিতে পারেন। এরপর সেই যন্ত্রের পাশে একটি ময়ূরের পালক রাখার প্রচলন রয়েছে।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ময়ূরের পালক নেতিবাচক শক্তি দূর করতে সাহায্য করে। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে বাধা কমে কাজের ক্ষেত্রে উন্নতির পরিবেশ তৈরি হয় বলে মনে করা হয়।
২. তামার ঘট রাখুন বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে
বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকালে স্নান করে একটি ছোট তামার ঘট নিতে পারেন। তাতে গঙ্গাজল, একটি এক টাকার কয়েন এবং একটি তুলসীপাতা দিয়ে ঘটটি বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে রাখার কথা বলা হয়।
সন্ধ্যায় ওই ঘটের পাশে একটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই নিয়ম পালন করলে বাড়ির বাস্তুদোষের প্রভাব কমে এবং ঘরে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। পাশাপাশি আটকে থাকা অর্থ ফেরার ক্ষেত্রেও শুভ ফল মিলতে পারে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
৩. সদর দরজায় ঝোলান বিশেষ পুঁটুলি
নেতিবাচক শক্তির প্রভাব থেকে বাড়িকে রক্ষা করার জন্য বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে একটি বিশেষ পুঁটুলি তৈরি করার কথাও বলা হয়।
এর জন্য একটি কালো কাপড়ের টুকরোয় ১০৮টি কালো সর্ষে, একটি ছোট লোহার পেরেক এবং এক চিমটে কর্পূর নিয়ে পুঁটুলি তৈরি করুন। এরপর সেটি বাড়ির সদর দরজার উপরে ঝুলিয়ে দেওয়ার প্রচলন রয়েছে।
বিশ্বাস করা হয়, এই পুঁটুলি বাড়িকে নেতিবাচক প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
৪. বিশ্বকর্মাকে ঘুড়ি নিবেদন
বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়িরও বিশেষ যোগ রয়েছে। নিজের বাড়িতে পুজো না হলেও আশপাশে কোথাও বিশ্বকর্মা পুজো হলে সেখানে একটি ঘুড়ি নিবেদন করতে পারেন।
পুজো শেষে সেই ঘুড়িটি ব্যবসার জায়গায় রেখে দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এর ফলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বাধা ও মন্দাভাব কাটিয়ে শুভ সময় আসতে পারে।
৫. আতপ চাল ও ফুল দিয়ে করুন এই টোটকা
বাস্তুদোষের প্রভাব কাটানোর জন্য বিশ্বকর্মা পুজোর সময় আরও একটি নিয়ম পালনের কথা বলা হয়। কিছুটা আতপ চাল এবং ফুল নিয়ে বিশ্বকর্মার উদ্দেশে নির্দিষ্ট মন্ত্র জপ করতে পারেন।
এরপর পুজোর সময় বাড়ির চারপাশে সেই ফুল ও আতপ চাল ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই নিয়ম পালন করলে বাড়ির নেতিবাচক প্রভাব দূর হয়ে শুভ পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
Vastu: হাত থেকে নুন পড়ে যাওয়া কি অশুভ?জেনে নিন
মনে রাখবেন
উপরের টোটকাগুলি মূলত প্রচলিত ধর্মীয় ও বাস্তুবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে বলা হয়। এগুলির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এগুলিকে বিশ্বাস ও আচার হিসেবে দেখাই শ্রেয়। বিশ্বকর্মা পুজোর মূল উদ্দেশ্য হল কর্ম, কারিগরি দক্ষতা ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত যন্ত্রপাতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করা।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.