টলিউডের পরিচিত সহকারী পরিচালক দীপঙ্কর সরকারের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাংলা বিনোদন জগৎ। মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই শোকপ্রকাশ করেন পরিচালক পথিকৃৎ বসু, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র-সহ টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। এবার দীর্ঘ ১৮ বছরের বন্ধুকে হারিয়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। দীপঙ্করের আকস্মিক প্রয়াণ এখনও মেনে নিতে পারছেন না তিনি। সমাজমাধ্যমে বন্ধুকে স্মরণ করে জীবনের অনিশ্চয়তা এবং মানুষের মানসিক ভঙ্গুরতা নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন পরমব্রত।
টলিউডের একাধিক পরিচিত ছবি ও সিরিজে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন দীপঙ্কর সরকার। ‘দেবী চৌধুরানি’, ‘দাবাড়ু’, ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’, ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’, ‘স্বার্থপর’ এবং ‘কাছের মানুষ’-এর মতো ছবিতে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা ছিল। পাশাপাশি ‘রক্তফলক’ ও ‘পর্ণশবরীর শাপ’-এর মতো সিরিজে পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
কাজের সূত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও পরমব্রতর সঙ্গে গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল দীপঙ্করের। দীর্ঘ ১৮ বছরের পরিচয়ে একাধিক কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি ‘রক্তফলক’, ‘ছদ্মবেশি’ ও ‘জননী’-সহ বিভিন্ন সিরিজ ও ছবির কাজেও পরমব্রতর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপঙ্কর। এমনকী, অক্টোবরের শুরুতে অন্নপূর্ণা বসুর একটি ছবিতে পরমব্রত অভিনয় করলেও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন দীপঙ্করই। বন্ধুর মৃত্যুর পর দু’দিন পেরিয়ে গেলেও সেই খবর মেনে নিতে পারছেন না পরমব্রত। সেই কারণেই এত দিন এ বিষয়ে কিছু লেখেননি বা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আজ দু’দিনের বেশি হয়ে গেল, কিন্তু আমার এখনও বিশ্বাস হয় না যে দীপঙ্কর নেই। সেই জন্যেই কিছু লিখিনি বা বলিনি কোথাও এই ব্যাপারে এযাবৎ।”
দীপঙ্করের সঙ্গে সাম্প্রতিক কাজের স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা-পরিচালক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একের পর এক সিরিজ ও ছবির কাজে তাঁর সঙ্গে নিয়মিতভাবে যুক্ত ছিলেন দীপঙ্কর। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও যে মানুষটি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, তাঁর এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরমব্রত। দীপঙ্করের মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই টলিউডের অন্দরে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সামনে না আসায় বিষয়টি নিয়ে জল্পনা এড়ানোই সমীচীন। এই পরিস্থিতিতে মানুষের মনের অজানা দিক এবং মানসিক ভাঙনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন পরমব্রত।
তাঁর কথায়, “আমরা আসলে ভিতরে ভিতরে খুব ভঙ্গুর। কোথায় কখন মনের কোন কোনায় কী কারণে ভাঙন ধরে, কেউ খবর রাখে না, আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে জানাইও না কাউকে।” জীবনের অভিজ্ঞতা যতই বাড়ুক না কেন, অপ্রত্যাশিত ঘটনা যে মানুষকে নতুন করে বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়, সেই কথাও নিজের লেখায় তুলে ধরেছেন তিনি। পরমব্রতর বক্তব্য, “চারপাশে অনেক কিছু দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতে যখন মনে হয় বোধহয় সবই দেখা হয়ে গেল, তখনই জীবন আরেকবার সপাটে চড় মেরে বুঝিয়ে দেয়, এখনও অনেক দেখা, অনেক শোনা, অনেক সওয়া বাকি।”
দীপঙ্করের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা পরমব্রতর শেষ কথাগুলিতেই স্পষ্ট। বন্ধুকে হারানোর যন্ত্রণা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, “এভাবে বিদায় জানানোটা বড় কঠিন দীপঙ্কর। তোমার নামটা যে সাতসকালে অ্যালার্মের মতো জ্বলজ্বল করে উঠত ফোনের পর্দায়, সেটাকে হঠাৎ মুছে ফেলি কী করে বলো তো!”

পরমব্রতর এই আবেগঘন বার্তায় উঠে এসেছে এক বন্ধুকে হারানোর অসহায়তা, দীর্ঘদিনের একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতি এবং প্রিয় মানুষের অনুপস্থিতি মেনে নেওয়ার কঠিন বাস্তব। দীপঙ্কর সরকারের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া টলিউডে। তাঁর সঙ্গে কাজ করা সহকর্মী ও পরিচিতদের কাছে এই শূন্যতা যে সহজে পূরণ হওয়ার নয়, পরমব্রতর কথাতেই তার ইঙ্গিত মিলেছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.