দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। আর এই বিশেষ দিনে মা কালীর আরাধনায় মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ থেকে তারকারাও। প্রতিবছরের মতো এবারও ধুমধাম করে কালীপুজোর আয়োজন করেছেন টলিউড অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক ও তাঁর স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। তাঁদের বাড়ির পুজো এবার ছয় বছরে পা দিল। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বেনারসি শাড়ি আর বাহারি গয়নায় সেজে উঠবেন তাঁদের বাড়ির মা কালী।
কাঞ্চন ও শ্রীময়ী দু’জনেই ঈশ্বরবিশ্বাসী। তাঁদের বাড়িতে প্রতি পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় নিয়মিত পুজো হয়। তবে কাঞ্চনের বাড়িতে কালীপুজোর প্রচলন নতুন করে শুরু করার পিছনে রয়েছে শ্রীময়ীর বিশেষ ভূমিকা। ২০২১ সালে অভিনেত্রীর উদ্যোগেই কাঞ্চনের পৈতৃক বাড়িতে ফের শুরু হয়েছিল মা কালীর আরাধনা। কালীপুজোর প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শ্রীময়ী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই মায়ের গয়না পালিশের কাজ শেষ হয়েছে। বাড়ি সাজানো থেকে শুরু করে পুজোর নানা আয়োজন, সব কিছু নিয়েই ব্যস্ত তিনি। গতবারের মতো এবারও ফুলের রঙ্গোলি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বড় হার, মুকুট, হাতবালা, চূড়া এবং নূপুরে মা কালীকে রাজরানির সাজে সাজিয়ে তোলা হবে।
মায়ের সাজের দায়িত্ব বরাবরই নিজের হাতে সামলান শ্রীময়ী। গত চার বছর ধরে কালীঘাটের একটি দোকান থেকে তাঁদের বাড়ির মা কালীর জন্য বিশেষভাবে তৈরি বেনারসি শাড়ি আসে। ফুল দিয়ে সাজানো হয় পুজোর বেদি ও বাড়ির প্রবেশপথ। অন্যদিকে, শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও পুজোর যাবতীয় বাজার করেছেন কাঞ্চন।পুজোর পাশাপাশি ভোগের আয়োজনেও থাকে বিশেষ চমক। প্রতিবছর আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য খিচুড়ি কিংবা পোলাওয়ের ব্যবস্থা করা হয়। মায়ের ভোগে থাকে খিচুড়ি, লাবড়া, পাঁচ রকমের ভাজা, ফুলকপির তরকারি, পনির অথবা বাঁধাকপির পদ। সঙ্গে চাটনি, মিষ্টি এবং পরমান্ন তো থাকছেই। ভোগ রান্নার দায়িত্বে থাকেন রামকৃষ্ণ মিশনে দীক্ষিত দাসদা নামে এক ব্যক্তি।
এবারের কালীপুজো কাঞ্চন-শ্রীময়ীর কাছে আরও বেশি বিশেষ। কারণ তাঁদের ছেলে কৃষভির জীবনে এটাই প্রথম দীপাবলি। তাই পুজো ঘিরে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দুটোই কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও মা কালীর কাছে বিশেষ প্রার্থনা রয়েছে শ্রীময়ীর। তাঁর কথায়, পৃথিবীর সমস্ত মানুষের মধ্যে যেন শুভবুদ্ধির উদয় হয়। যাঁদের মধ্যে এখনও মনুষ্যত্ববোধের অভাব রয়েছে, মা যেন তাঁদের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন ঘটান। কাঞ্চনের বাড়িতে কালীপুজো পুনরায় শুরু হওয়ার পিছনেও রয়েছে একটি আবেগঘন ঘটনা। শ্রীময়ীর কথায়, একসময় কালীপুজোর দিন ঘটে যাওয়া পরপর দুটি দুর্ঘটনার কারণে মা কালীর উপর অভিমান হয়েছিল কাঞ্চনের। একটি ঘটনায় তাঁর মায়ের শরীরের বেশ কিছুটা অংশ আগুনে পুড়ে যায়। অন্য একটি ঘটনায় তাঁর মায়ের হাঁটুর মালাইচাকি ভেঙে যায়। এরপর থেকেই দীপাবলির দিন নিজের বাড়ি অন্ধকার করে রাখতেন কাঞ্চন। এমনকী একটি প্রদীপও জ্বালাতেন না।
২০২১ সালে প্রথমবার কাঞ্চনের বাড়িতে যাওয়ার পর শ্রীময়ী তাঁকে আবার কালীপুজো শুরু করার পরামর্শ দেন। অভিনেত্রীর বিশ্বাস ছিল, মা কালী নিজেই যেন পুজোর মাধ্যমে ফিরে আসতে চাইছেন। এরপর তাঁর উদ্যোগেই নতুন করে শুরু হয় পারিবারিক কালীপুজো।
পুজোর দিন নিয়ম মেনে উপোসও করেন কাঞ্চন ও শ্রীময়ী। সারাদিন পুজোর আয়োজন, ভোগ রান্না এবং অন্যান্য দায়িত্ব সামলান শ্রীময়ী। ২০২৪ সালে অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীনও পুজোর রীতিনীতি বজায় রেখেছিলেন তিনি। যদিও সেই সময় শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে নির্জলা উপোস করেননি। এবারও নিয়ম মেনে উপোস করে মা কালীর আরাধনায় বসবেন তারকা দম্পতি।

সব মিলিয়ে, তারকাখচিত ব্যস্ততার মাঝেও কাঞ্চন-শ্রীময়ীর বাড়ির কালীপুজো যেন একান্ত পারিবারিক আবেগ ও বিশ্বাসের উৎসব। আর মায়ের কাছে তাঁদের একটাই প্রার্থনা—সকলের জীবনে শুভবুদ্ধি, শান্তি ও মনুষ্যত্বের আলো ছড়িয়ে পড়ুক।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.