Recipe: রাখিবন্ধনের উৎসবে ভাইয়ের পছন্দের মিষ্টি যদি নিজের হাতেই তৈরি করে খাওয়াতে পারেন, তা হলে আনন্দটা যেন আরও একটু বেড়ে যায়। অনেকেই ভাবেন, বাড়িতে মিষ্টি বানানো মানেই বেশ ঝক্কির কাজ। কিন্তু এমন কিছু মিষ্টি রয়েছে, যেগুলি অল্প উপকরণেই সহজে তৈরি করা যায়। রাখির দিনে দোকান থেকে মিষ্টি না কিনে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন বেসনের লাড্ডু থেকে রসমালাই—রইল পাঁচটি সহজ রেসিপি।
১. বেসনের লাড্ডু
উপকরণ:
*বেসন — ২ কাপ
*ঘি — আধ কাপ
*গুঁড়ো চিনি — ১ কাপ
*এলাচ গুঁড়ো — আধ চা-চামচ
*কাজু বা আমন্ড কুচি — ২-৩ টেবিলচামচ
পদ্ধতি:
কড়াইয়ে ঘি গরম করে বেসন দিয়ে কম আঁচে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর বেসনের রং হালকা সোনালি হয়ে এলে আঁচ বন্ধ করুন। কয়েক মিনিট ঠান্ডা হতে দিন। এরপর গুঁড়ো চিনি, এলাচ গুঁড়ো এবং কুচনো বাদাম দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হলে অল্প অল্প করে নিয়ে গোল করে লাড্ডু বানিয়ে ফেলুন।
২. চালের ক্ষীর
উপকরণ:
*গোবিন্দভোগ চাল — আধ কাপ
*দুধ — ১ লিটার
*চিনি — আধ কাপ
*এলাচ গুঁড়ো — আধ চা-চামচ
*জাফরান — এক চিমটি
*কাজু, আমন্ড ও পেস্তা — ২-৩ টেবিলচামচ
পদ্ধতি:
চাল ভালো করে ধুয়ে ১৫-২০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখুন। অন্য দিকে দুধ ফুটিয়ে নিন। চালের জল ঝরিয়ে ফুটন্ত দুধে দিয়ে কম আঁচে রান্না করুন। মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন, যাতে পাত্রের তলায় দুধ বা চাল লেগে না যায়। ক্ষীর ঘন হয়ে এলে চিনি মেশান। সামান্য গরম দুধে জাফরান ভিজিয়ে নিয়ে ক্ষীরে দিন। এলাচ গুঁড়ো দিয়ে আরও ৫-৭ মিনিট রান্না করুন। শেষে উপর থেকে কুচনো বাদাম ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
৩. সুজির হালুয়া
উপকরণ:
*সুজি — ১ কাপ
*ঘি — আধ কাপ
*চিনি — আধ কাপ
*এলাচ গুঁড়ো — আধ চা-চামচ
*কাজু ও আমন্ড — ২ টেবিলচামচ
*কিশমিশ — ১ টেবিলচামচ
পদ্ধতি:
প্যানে ঘি গরম করে সুজি দিয়ে কম আঁচে ৮-১০ মিনিট নাড়ুন। সুজি হালকা সোনালি হয়ে সুগন্ধ বেরোলে বুঝবেন ভাজা হয়েছে। অন্য পাত্রে জল ও চিনি দিয়ে চিনির মিশ্রণ তৈরি করুন। চিনি সম্পূর্ণ গলে গেলে সাবধানে সেটি সুজির মধ্যে ঢালুন। একই সঙ্গে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন, যাতে দলা না পাকায়। সুজি ঘন হয়ে এলে এলাচ গুঁড়ো, কাজু, আমন্ড ও কিশমিশ মিশিয়ে নিন।
৪. রসমালাই
উপকরণ:
*রসগোল্লা — ৮-১০টি
*দুধ — ১ লিটার
*চিনি — আধ কাপ
*জাফরান — এক চিমটি
*এলাচ গুঁড়ো — আধ চা-চামচ
*পেস্তা ও আমন্ড কুচি — প্রয়োজনমতো
পদ্ধতি:
দুধ ফুটিয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে ঘন করে নিন। এরপর চিনি মেশান। সামান্য গরম দুধে জাফরান ভিজিয়ে নিয়ে মূল দুধে মিশিয়ে দিন। এলাচ গুঁড়োও দিয়ে দিন। এবার রসগোল্লাগুলি আলতো করে চিপে অতিরিক্ত সিরা বের করে নিন। ঘন দুধের মধ্যে রসগোল্লা দিয়ে কম আঁচে ৩-৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। আঁচ বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর ২-৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। পরিবেশনের আগে পেস্তা, আমন্ড কুচি এবং সামান্য জাফরান ছড়িয়ে দিন।
৫. শ্রীখণ্ড
উপকরণ:
*ঘন দই — ৫০০ গ্রাম
*গুঁড়ো চিনি — ১ কাপ
*এলাচ গুঁড়ো — আধ চা-চামচ
*জাফরান — এক চিমটি
*গরম দুধ — ১ টেবিলচামচ
*পেস্তা ও আমন্ড কুচি — ২-৩ টেবিলচামচ
পদ্ধতি:
মসলিন বা পরিষ্কার সুতির কাপড়ে দই ঢেলে কাপড়টি বেঁধে কয়েক ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখুন। এতে দইয়ের অতিরিক্ত জল বেরিয়ে গিয়ে তা ঘন হয়ে যাবে। ঘন দই একটি বড় বাটিতে নিয়ে নিন। গরম দুধে জাফরান ৫-১০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। গুঁড়ো চিনি ও এলাচ গুঁড়োও দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে মসৃণ করে নিন। ১-২ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখার পর পরিবেশন করুন। উপর থেকে পেস্তা ও আমন্ড কুচি ছড়িয়ে দিলেই তৈরি সুস্বাদু শ্রীখণ্ড।
রাখির দিনে প্রিয় ভাইয়ের জন্য এই মিষ্টিগুলির যে কোনও একটি বাড়িতে তৈরি করতে পারেন। নিজের হাতে বানানো মিষ্টির স্বাদে উৎসবের আনন্দও হয়ে উঠবে আরও মিষ্টি।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.