রাজস্থানের দুঙ্গারপুর জেলার ছোট্ট গ্রাম বাণেশ্বর বছরের অধিকাংশ সময়েই শান্ত ও নিরিবিলি। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কাটে গোটা বছর। কিন্তু মাঘ মাস এলেই এই প্রত্যন্ত গ্রাম যেন এক অন্য রূপ নেয়। মাত্র পাঁচ দিনের জন্য হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে সমবেত হন। সেই কারণেই এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে অনেকেই ‘আদিবাসীদের কুম্ভ’ নামে চিহ্নিত করেন।
মাঘ শুক্ল একাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত চলে এই বিখ্যাত বাণেশ্বর মেলা। বহু প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই উৎসব। মেলার মূল আকর্ষণ বাণেশ্বর মহাদেব মন্দির, যেখানে ভগবান শিবের আরাধনা করা হয়। পাশাপাশি ভগবান বিষ্ণুকেও পুজো দেন ভক্তরা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মেলাকে ঘিরে জমে ওঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকসংগীত ও আদিবাসী নৃত্যের আসর।
এই মেলার সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িয়ে রয়েছে ভিল আদিবাসী সম্প্রদায়। ভারতের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ভিলরা প্রতি বছর এখানে উপস্থিত হন। শুধু ভিল নয়, আরও বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষও এই উৎসবে অংশ নেন। ফলে বাণেশ্বর মেলা হয়ে ওঠে এক বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমঞ্চ।
শুধু ধর্মীয় গুরুত্বই নয়, পর্যটকদের কাছেও এই মেলা বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। ভারতের লোকসংস্কৃতি, আদিবাসী জীবনধারা এবং ঐতিহ্য কাছ থেকে দেখার জন্য বহু মানুষ এখানে আসেন। মেলার সময় গোটা এলাকা রঙিন পোশাক, লোকবাদ্য, নাচ ও গানের আবহে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বাণেশ্বর গ্রামের কাছেই সোম ও মাহি নদীর মিলনস্থল রয়েছে। এই পবিত্র সঙ্গমকে ঘিরেও মেলার ধর্মীয় গুরুত্ব অনেক বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলার বিস্তারও বেড়েছে। বর্তমানে মেলা মূলত দু’টি অংশে অনুষ্ঠিত হয়—একটি বাণেশ্বর মহাদেব মন্দির চত্বরে এবং অন্যটি পরে নির্মিত বিষ্ণু মন্দিরের সামনে।
পাঁচ দিনের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব আজ শুধু রাজস্থানের নয়, ভারতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য আদিবাসী মেলা হিসেবেও পরিচিত।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.