প্রযুক্তির শহর হিসেবে পরিচিত বেঙ্গালুরু আবারও আলোচনায়। তবে এবার কোনও বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী নন, বরং এক সাধারণ সবজি বিক্রেতাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে চর্চা। শহরের রাস্তায় সবজি বিক্রি করার পাশাপাশি তিনি এমন এক কাজ করছেন, যা সরাসরি যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সঙ্গে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই বিক্রেতার মাথায় বাঁধা রয়েছে বিশেষ ধরনের একটি হেডগিয়ার। সেখানে একটি স্মার্টফোন ও তথ্য সংরক্ষণের ডিভাইস লাগানো ছিল। ভিডিওটি ধারণ করেন এক কনটেন্ট নির্মাতা, যিনি জানান, প্রথমে বিষয়টি দেখে তিনিও অবাক হয়ে যান। পরে কথা বলে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি এআই মডেলের প্রশিক্ষণের জন্য বাস্তব পরিবেশের তথ্য সংগ্রহ করছেন।
জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য তিনি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩৫০ টাকা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় কাজ করলে মাসিক আয় লক্ষাধিক টাকাতেও পৌঁছতে পারে। এই তথ্য সামনে আসতেই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকে বলছেন, প্রযুক্তির প্রসারের ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষও নতুন ধরনের কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এআইকে আরও উন্নত করতে যে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেই প্রযুক্তিই হয়তো মানুষের অনেক প্রচলিত পেশার জায়গা দখল করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের তথ্য সংগ্রহকে প্রযুক্তির ভাষায় ‘ইগোসেন্ট্রিক ডেটা কালেকশন’ বলা হয়। এর মাধ্যমে একজন মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরা, কাজের ধরন, আশপাশের পরিবেশ ও বস্তুর অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। স্মার্টফোনের ক্যামেরা ও বিশেষ সেন্সরের সাহায্যে এই তথ্য রেকর্ড করা সম্ভব হয়। পরে সেই ডেটা ব্যবহার করে রোবট বা এআই সিস্টেমকে মানুষের আচরণ ও কাজ শেখানো হয়।
বিশেষ করে রোবোটিক্স ও হিউম্যানয়েড প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলি এই ধরনের ডেটার উপর নির্ভর করে। কারণ বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে সংগৃহীত তথ্য এআইকে আরও কার্যকর ও মানবসদৃশ আচরণ করতে সাহায্য করে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। কেউ এই ঘটনাকে ভবিষ্যতের কাজের নতুন দিশা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এআই প্রযুক্তির বিস্তার এখন আর শুধু বড় সংস্থার অফিসঘরে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গিয়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার মধ্যেও।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.